পানিসংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা ভালো উদ্যোগ, তবে কার্যকর বাস্তবায়ন দরকার

পানিসংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা ভালো উদ্যোগ, তবে কার্যকর বাস্তবায়ন দরকার

হাসিন জাহান: আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন তুলেছেন। একদিকে আমরা বলছি—এসব এলাকায় পানির ব্যবহার কমাতে হবে, সংযত হতে হবে। অন্যদিকে বাস্তবতা হলো, একই এলাকাগুলোতেই ব্যাপকভাবে বোরো ধান চাষ হয়, যা আমাদের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—তাহলে করণীয় কী?

প্রথমত, বোরো ধান যেহেতু পানিনির্ভর, তাই এর বিকল্প হিসেবে কম পানি লাগে এমন ফসল—যেমন ডাল, তেলবীজ, ভুট্টা চাষে প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। তবে এখানে একটি বাস্তব উদ্বেগ আছে, ধানের উৎপাদন কমে গেলে সারা বছরের খাদ্যচাহিদা কীভাবে পূরণ হবে? এই জায়গায় আমাদের দরকার একটি সমন্বিত, অঞ্চলভিত্তিক ক্রপ জোনিং করে কী ধরনের শস্য কোথায় কী পরিমাণ হলে দেশের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয় সেটা নিয়ে পরিকল্পনা করা।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি ও পরিবেশে বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির লবণাক্ততাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে ক্রপ জোনিং আপডেট করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন ফসল উৎপাদনে ভারসাম্য আসবে, অন্যদিকে পানির অপচয়ও কমবে।

দ্বিতীয়ত, আমাদের পানির ব্যবহারে বড় ধরনের অদক্ষতা রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই কৃষিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই পুরোটা যে অপরিহার্য—তা নয়। সাশ্রয়ী সেচপদ্ধতি, যেমন AWD (Alternate Wetting and Drying) প্রযুক্তি ব্যবহার করলে অনেক পানি সাশ্রয় করা সম্ভব।

তৃতীয়ত, অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাগুলোও বড় ভূমিকা রাখছে। তারা কতটুকু পানি উত্তোলন করছে, তার কোনো সঠিক হিসাব বা নিয়ন্ত্রণ নেই। অথচ পানি আইন ২০১৩ ও ওয়াটার রুল ২০১৮-তে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

সুতরাং কৃষি ও শিল্প—উভয় খাতে পানির ব্যবহারকে জবাবদিহির আওতায় এনে, পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।