এখানকার ঈদে আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়াও গভীর। সিলেট হলো হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর পুণ্যভূমি। ঈদের নামাজ শেষে অনেকেই তাঁদের দরগাহে জিয়ারত করতে যান। স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন, ‘ঈদের নামাজ পড়ে দরগাহে গিয়ে দোয়া করা—এটা আমাদের বহুদিনের রেওয়াজ। এতে মনটা শান্ত হয়ে যায়।’
গ্রামের দিকেও ঈদের চিত্র আলাদা এক মাধুর্য নিয়ে ধরা দেয়। খোলা মাঠে নামাজ, তারপর সবার বাড়িতে বাড়িতে যাওয়া, ছোটদের সালামি দেওয়া—সব মিলিয়ে সেখানে ঈদের আনন্দ আরও আন্তরিক। গ্রামের এক শিক্ষক বললেন, ‘এখানে সবাই সবাইকে চেনে। ঈদের দিন কেউ একা থাকে না—এই জিনিসটাই সবচেয়ে সুন্দর।’
সবশেষে যেটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, তা হলো ঐক্যের ছবি। শাহি ঈদগাহের বিশাল মাঠে ধনী-গরিব, ছোট-বড়, নানা পেশার মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। এই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়—ঈদের আসল শিক্ষা ভ্রাতৃত্ব আর সমতা।
তথ্য, ইতিহাস আর মানুষের মুখের গল্প—সব মিলিয়ে সিলেটের ঈদ যেন এক সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা। এখানে ঈদ মানে শুধু নতুন কাপড় বা উৎসব নয়; বরং এটি স্মৃতি, সম্পর্ক আর বিশ্বাসের এক গভীর বন্ধন, যা সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়ে উঠছে।
সাবেক সভাপতি, মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা




