খাবারের অভাবেই ভূমধ্যসাগরে মারা গেছেন সুনামগঞ্জের ১০ জন, জানালেন গ্রিসের ক্যাম্পে থাকা যুবক

খাবারের অভাবেই ভূমধ্যসাগরে মারা গেছেন সুনামগঞ্জের ১০ জন, জানালেন গ্রিসের ক্যাম্পে থাকা যুবক

দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য এওর মিয়া মুঠোফোনে জানান, মারা যাওয়া চারজনই তাঁর আত্মীয়। গতকাল বিকেলে ওই বোটে থাকা গ্রামের আবদুল কাহারের ছেলে রোহান আহমদ (২৫) ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। রোহান আহমদ জানিয়েছেন, গেমে (বোটে) খাবার ও পানির সংকটের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অনেকেই মারা যান। তাঁদের মধ্যে এই চারজনও আছেন। পরে তাঁদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

একই গ্রামের বাসিন্দা বর্তমান ইউপি সদস্য শাহনূর মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, রোহানই ফোনে গ্রামের চারজনের মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছেন। রাবারের বোটে করে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে নেওয়া হয়। এটিকে লোকজন গেম বলেন। গেমেই তাঁরা মারা গেছেন। সাহান এহিয়ার বড় ভাই মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, প্রত্যেকেই ১২ লাখ টাকায় গ্রিসে যাওয়ার জন্য দালালের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। গত মাসে তাঁরা বাড়ি থেকে রওনা দেন। লিবিয়া যাওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন ধরে তাঁদের কোনো খোঁজ ছিল না। আজ বিকেলে চাচাতো ভাই রোহান ফোনে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেন, ‘ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ১০ জন রয়েছেন বলে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাঁদের নাম–পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।’