বিচার বিভাগ, দুর্নীতি ও গুম বিষয়ে সরকার পেছনে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে: ইফতেখারুজ্জামান | চ্যানেল আই অনলাইন

বিচার বিভাগ, দুর্নীতি ও গুম বিষয়ে সরকার পেছনে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে: ইফতেখারুজ্জামান | চ্যানেল আই অনলাইন

চারটি অধ্যাদেশ রাখা, ছয়টি সংশোধন, দুটি বাতিল চায় টিআইবি

বর্তমান সংসদে বাতিলের সুপারিশ করা সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রাখা হোক, তা চায় টিআইবি। এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিয়োগ অধ্যাদেশটি রহিত করায় বিচারক নিয়োগের বিষয়টি আবারও পুরোনো ধারায় ফিরে যাবে বা সরকারপ্রধানের ইচ্ছামাফিক হয়ে পড়বে। এটি এক পা এগিয়ে দুই পা পেছনে হাঁটার শামিল। আর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিত করার পেছনে সরকার যেসব যুক্তি তুলে ধরছে, তার সারমর্ম হচ্ছে বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতের পথ রুদ্ধ করে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরকারি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়ার বিষয়টি শঙ্কার বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এর ফলে কমিশনের প্রশাসনিক স্বাধীনতা খর্ব হবে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা এবং বিচারিক ক্ষমতাকে নির্বাহী ক্ষমতায় রূপান্তরের শঙ্কা রয়েছে। এই অধ্যাদেশ দুটির অনুপস্থিতি ‘অপশনাল প্রটোকল টু দ্য কনভেনশন এগেইনস্ট টরচার (ওপিসিএটি)’ এবং ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের মতো আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করবে। এমন বাস্তবতা বিবেচনায় কমিশনকে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বা ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করার পরিবর্তে কার্যকর মানবাধিকার কমিশনে রূপান্তর করা না গেলে এবং গুম প্রতিরোধ আইনে ব্যত্যয় করা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। ছয়টি অধ্যাদেশ পুনর্মূল্যায়ন বা সংশোধন করা জরুরি বলে টিআইবি মনে করে। এগুলো হলো: দুদক অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার সংশোধন অধ্যাদেশ, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ এবং রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ৷ এর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন ইফতেখারুজ্জামান।

আর দুটি অধ্যাদেশ টিআইবি বাতিল চায়। এগুলো হলো: পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ। এ প্রসঙ্গে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশকে একটি পেশাদার ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠন প্রয়োজন, তার কোনো প্রতিফলনই পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশে হয়নি। এর অধীনে কমিশন হলে তা মৌলিক উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হবে। আর উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশে এমন একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে, যা একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও সেবাদাতা। এটি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করবে।

‘অধ্যাদেশ নিয়ে খেলা হচ্ছে’ অধ্যাদেশ নিয়ে খেলা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অধ্যাদেশ নিয়ে যে খেলাটা হচ্ছে, সেখানেও আগের মতো ভেতর থেকে প্রতিরোধ আসছে। এখানে দুটি আঙ্গিক আছে: রাজনীতি ও আমলাতন্ত্র৷ আমলাতন্ত্রই এখনো আগের মতোই মূল নিয়ন্ত্রক৷

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। আর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশকে আরও বেশি যুগোপযোগী করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। তাঁদের দুজনের কথার ওপর আস্থা রাখতে চাই। কিন্তু কঠিন হচ্ছে আস্থা রাখাটা। কারণ, তাঁরা যেটি বলছেন, সেটি কাজে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন না।’

টিআইবির আউটরিচ ও কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন। সংস্থার উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও নীতি পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।