মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল, ফিরছে পুরোনো আইন

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল, ফিরছে পুরোনো আইন

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন। এই বক্তব্যগুলো পল্টন ময়দান, প্রেসক্লাব, মুক্তাঙ্গনসহ রাজপথের জন্য অনেক বেশি জুসি। বেশি প্রাসঙ্গিক। আমার মনে হয়, উনি সব পড়েছেন, শুধু বিলটি পড়েননি।’

আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো আইন যদি এমন অসৎ উদ্দেশ্যে হয় যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাকে কাজ করতে দেওয়া হবে না, সে রকম উদ্দেশ্যপূর্ণ আইন শুরুতেই অকার্যকর হবে।

আইনমন্ত্রী দাবি করেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি ভিকটিমের (ভুক্তভোগী) জন্য আরেকটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। যেভাবে অধ্যাদেশটি আছে, সেভাবে রাখা হলে তা গুম কমিশন আইনকে দুর্বল ও অকার্কর করে দেবে। তিনি বলেন, ওই অধ্যাদেশে অনেক কিছুই অস্পষ্ট। অনেকগুলো প্রশ্ন রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন আছে।

আইনমন্ত্রী জানান, অধ্যাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে অভিযোগ প্রাপ্তির পর তা তদন্তে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। যদিও প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য ৩০ দিন সময় বরাদ্দ আছে, কিন্তু পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কত দিনে শেষ হবে, তার কোনো নির্দেশনা নেই।

এ ছাড়া কমিশন দোষীদের জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ ধার্য করতে পারলেও তা স্পষ্ট নয়। জরিমানার পরিমাণ, আদায়ের প্রক্রিয়া বা কোন আইনের অধীন এই দণ্ড কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে নির্দেশনা না থাকায় অস্পষ্টতা রয়ে গেছে বলে আইনমন্ত্রী জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের মেয়াদের ৪২ দিনে বাংলাদেশের একজন মানুষও ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি। একটি মানুষও গুমের শিকার হয়নি। এই সরকার মানবাধিকারের কোন পথে হেঁটে যাবে তা মানবাধিকারের এই রেকর্ড বলে দিচ্ছে।