হলিউডে মুক্তি পেল ‘দ্য মমি’, অ্যাডভেঞ্চার নয়, পুরো হরর

হলিউডে মুক্তি পেল ‘দ্য মমি’, অ্যাডভেঞ্চার নয়, পুরো হরর

হলিউডের জনপ্রিয় ‘দ্য মমি’ নামটি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হলেও সদ্য মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি আসলে আগের ফ্র্যাঞ্চাইজির কোনো অংশ নয়। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি সম্পূর্ণ নতুন গল্প ও ভিন্ন ঘরানার হরর চলচ্চিত্র, যা দর্শকদের জন্য একেবারেই আলাদা অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে।

আইরিশ নির্মাতা লি ক্রোনিন পরিচালিত এই সিনেমাটি এখন দেশের প্রেক্ষাগৃহেও প্রদর্শিত হচ্ছে। স্টার সিনেপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হলে মুক্তির দিন থেকেই এর শো শুরু হয়েছে। যদিও স্থানীয় দর্শকদের রিভিউ এখনো খুব বেশি পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিকভাবে গার্ডিয়ান ও দ্য হলিউড রিপোর্টারের মতো গণমাধ্যম ইতোমধ্যেই সিনেমাটি নিয়ে পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে।

রিভিউগুলোতে বলা হয়েছে, সিনেমাটির দৈর্ঘ্য হরর ঘরানার তুলনায় কিছুটা বেশি মনে হতে পারে এবং এটি দর্শকদের মধ্যে অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গল্পের গভীরতা বা স্বচ্ছতার চেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য ও শারীরিক নৃশংসতার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সমালোচনায় উল্লেখ করা হয়।

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি পরিবার। এক সাংবাদিক বাবার মেয়ে কেটি আট বছর নিখোঁজ থাকার পর হঠাৎ করে একটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের মধ্যে পাওয়া যায়। শুরুতে পরিবার আনন্দিত হলেও দ্রুতই সেই আনন্দ ভয়াবহ আতঙ্কে রূপ নেয়, কারণ কেটির আচরণ হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক ও রহস্যময়।

ধীরে ধীরে তার শরীর ও আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়, যা ইঙ্গিত দেয় যে কোনো অশুভ শক্তি তার ভেতরে প্রবেশ করেছে। এরপর থেকেই শুরু হয় এক ভয়ংকর ও অস্থির পরিস্থিতি, যেখানে বাস্তবতা ও অতিপ্রাকৃত ঘটনার সীমারেখা মিলিয়ে যায়।

ভীতিকর দৃশ্য ও তীব্র হরর উপাদানের কারণে সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে ‘আর’ রেটিং পেয়েছে, অর্থাৎ ১৭ বছরের নিচের দর্শকদের জন্য এটি উপযোগী নয়। এতে মনস্তাত্ত্বিক ভয় ও শরীরকেন্দ্রিক ভয়ের এক শক্তিশালী মিশ্রণ দেখা যায়, যা ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ ও ‘হেরিডিটরি’র মতো সিনেমার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমায় প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত আছেন জেমস ওয়ান ও জেসন ব্লামসহ বিখ্যাত নির্মাতারা। এতে অভিনয় করেছেন জ্যাক রেনর, লাইয়া কস্তা, মে ক্যালামাউই, নাটালি গ্রেস ও ভেরোনিকা ফ্যালকনসহ আরও অনেকে।

সব মিলিয়ে, পুরোনো অ্যাডভেঞ্চারধর্মী ‘দ্য মমি’ নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ নতুন এক ভয়ংকর হরর অভিজ্ঞতা হিসেবে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছে।