শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড় করিয়ে ভিআইপি প্রটোকল নিলেন ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
এ সময় তাকে ভিআইপি মর্যাদায় সাদা কাপড় দিয়ে তৈরি আকর্ষণীয় তোরণ, ফুল ছিটানো, গার্ড অব অনার ও লাল ফিতা নাড়িয়ে বরণ করা হয়েছিল। যদিও গার্ড অব অনার বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাষ্ট্রপ্রধান বা বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর একটি সারিবদ্ধ আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসককে এ ধরনের সংবধর্না দেওয়ায় জেলাজুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। বিদ্যালয় কতৃপক্ষ যেমনি সমালোচনার মুখে পড়ছে তেমনি এ ধরনের অভ্যর্থ্যনা গ্রহণ করে চরম সমালোচনা ও বির্তকের মুখে পড়েছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ খালেক।
অনুষ্ঠান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সমালোচনার ঝড়। অনেকে লিখেন, যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের প্রটোকল নিচ্ছেন না, সেখানে একজন জেলা পরিষদের প্রশাসক কোনভাবেই এটি গ্রহণ করতে পারেন না। আরেকজন লিখেন, কোন রাজনৈতিক নেতার জন্য রাস্তায় ছাত্র-ছাত্রীদের দাঁড়ানোর সংস্কৃতি বন্ধ করা উচিত।
সংবর্ধিত অতিথি এম এ খালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রীকেও এ ধরনের অভ্যর্থনা দেয়া হচ্ছে। ভিআইপিদের দেয়া হয়। আমি উৎসাহ করিনি। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, আর এ ধরনের অনুষ্ঠানে নিষেধও নেই।
তিনি বলেন, এমপিদের ট্রাকে-ট্রাকে ফুল দিচ্ছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে না কেন। জনপ্রতিনিধি হলে অনেকে আবেগে এগুলো করে বাধা দিয়েও আটকানো যায় না।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী মোহাম্মদ সিরাজ অসুস্থ থাকায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র কুমার নাথ।
তিনি জানান, ধারাবাহিকতা অনুযায়ী এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল নিয়ে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।
সকাল ৯টা থেকে দিনভর ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, যেমন খুশি তেমন সাজোসহ বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয় বিদ্যালয় মাঠে। প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বিকাল ৪টার পর। মাগরিবের আযানের আগ মূহুর্তে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, অনুষ্ঠানের বিদ্যালয় ফান্ড থেকে ব্যয় করা হয় ৫০ হাজার টাকা। বিদ্যালয়টিতে মোট ছাত্র-ছাত্রী মাত্র ২৬০ জন। এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে ৬২ জন। গত বছর ৫২ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৩৫ জন।





