সিনেমার বার্তাই কি বদলে দিল তামিলনাড়ুর রাজনীতি? | চ্যানেল আই অনলাইন

সিনেমার বার্তাই কি বদলে দিল তামিলনাড়ুর রাজনীতি? | চ্যানেল আই অনলাইন

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে পা রেখেই চমক দেখিয়েছেন তারকা অভিনেতা থালাপতি বিজয়। ২০২৪ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তার দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে) প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই বাজিমাত করলো। সাধারণ মানুষের সমর্থন কতোটা কুড়িয়েছেন বিজয়- সেটা ভোটের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। সব ঠিক থাকলে বিজয়ের দল তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে!

নতুন দল হয়েও এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বিজয়ের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা! আর সেই জনপ্রিয়তার ভিত্তি গড়ে উঠেছে তার সিনেমাগুলোতেই।

বাণিজ্যিক ছবিতে নাচ, অ্যাকশন ও বিনোদনের পাশাপাশি বিজয় বেশ কিছু চলচ্চিত্রে সূক্ষ্মভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা তুলে ধরেছেন। যেখানে তিনি কখনো সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর, কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক প্রতিবাদী চরিত্র। তার এমন কিছু সিনেমা রয়েছে, যেগুলো তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ; বিজয়ের রাজনৈতিক সফলতার দিনে সেই ছবিগুলোর খোঁজ থাকলো এই ফিচারে:

থামিঝান (২০০২)

২০০২ সালের এই ছবিতে বিজয় একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি সাধারণ মানুষকে আইনের বিষয়ে সচেতন করতে চান। দুর্নীতি, অবহেলা ও নাগরিক অধিকার- এসব বিষয় উঠে এসেছে ছবির গল্পে। এটি একই সঙ্গে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-র অভিষেক চলচ্চিত্র।

থালাইভা (২০১৩)

এক সাধারণ মানুষ কীভাবে নেতৃত্বের ভূমিকায় উঠে আসে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াই, এই থিমটি বিজয়ের রাজনৈতিক ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।

কাথ্থি (২০১৪)

এ আর মুরুগাদোস পরিচালিত এই ছবিতে কৃষক ও গ্রামীণ মানুষের অধিকার নিয়ে জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে। কর্পোরেট শক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের লড়াই, পানি সংকট ও কৃষকের দুর্দশা; সব মিলিয়ে এটি বিজয়ের অন্যতম সামাজিক বার্তাধর্মী সিনেমা। এই সিনেমায় দেখা যায় এক সাধারণ যুবক কীভাবে পরিস্থিতির চাপে নেতৃত্বের ভূমিকায় উঠে আসে!

মার্সাল (২০১৭)

অ্যাটলি পরিচালিত এই ছবিতে বিজয় তিনটি ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন। স্বাস্থ্যখাত, করব্যবস্থা ও সরকারি নীতির সমালোচনামূলক সংলাপ এই সিনেমাকে তুমুল আলোচনায় আনে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে একটি সংলাপ রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।

সরকার (২০১৮)

একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী নিজের ভোট দিতে এসে দেখে তার ভোট আগেই কেউ দিয়ে গেছে! এরপর শুরু হয় একক লড়াই, যা পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেয়। ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সচেতনতার বার্তা এই ছবির মূল শক্তি।

জন নায়াগণ

মানে ‘জনতার নেতা’। অর্থবোধক এই সিনেমাটি এখনো মুক্তি পায়নি, তবে এটিকে বিজয়ের সবচেয়ে রাজনৈতিক সিনেমা বলা হচ্ছে। এইচ ভিনোথ পরিচালিত এই ছবিতে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরা হবে। দ্য হিন্দু