অবশেষে ম্যাজিক ফিগার ছুঁলেন বিজয় থালাপাতি, এবার লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রীর আসন

অবশেষে ম্যাজিক ফিগার ছুঁলেন বিজয় থালাপাতি, এবার লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রীর আসন

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের পর গত কয়েক দিনের স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটল। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা থালাপাতি বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। নাটকীয় সব মোড় পেরিয়ে অবশেষে জোট সরকার গঠনের পথে এখন আর কোনো বাধা রইলো না বিজয়ের সামনে। এর মাধ্যমেই দক্ষিণী এই রাজ্যে গত ৬২ বছরের দ্রাবিড় রাজনীতির একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে বিজয় নিজেই বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর আসনে।

গত কয়েক দিন ধরে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের সমর্থন পেতে বিজয়কে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। তবে, শনিবার বিকেলে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। ‘বিদুথালাই চিরাইথাইগাল কাটচি’ (ভিসিকে) এবং ‘ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ’ (আইইউএমএল) বিজয়ের দলকে নিঃশর্ত সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই দুই দলের সবার দুজন করে বিধায়ক থাকায় বিজয়ের জোটের মোট শক্তি এখন ১২০-এ পৌঁছেছে, যা প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার (১১৮) থেকে দুটি বেশি।

ভিসিকে’র পক্ষ থেকে রাজ্যপালের কাছে পাঠানো সমর্থন পত্রে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুতে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার নিশ্চিত করতেই তারা সি জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দলকে সমর্থন দিচ্ছে। এর আগে কংগ্রেসের ৫ জন এবং বাম দলগুলোর ৪ জন বিধায়কও বিজয়কে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।

বুধবার থেকেই বিজয় রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সাথে দেখা করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে না পারায় সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাননি। রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ১১৮ জন বিধায়কের ব্যক্তিগত স্বাক্ষর সম্বলিত আনুষ্ঠানিক চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি শপথ গ্রহণের অনুমতি দেবেন না। বিশেষ করে ভিসিকে-র অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় বিজয়ের ভবিষ্যৎ ঝুলে ছিল। আজ বিকেলে ভিসিকে প্রধান থল তিরুমাভালাভান আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন পত্র হস্তান্তর করার পর সেই ধোঁয়াশা কেটে যায়।

সমর্থন দিলেও জোটের ভেতরে দরকষাকষি এখনো চলমান। জানা গেছে, বাম দলগুলো নিঃশর্ত সমর্থন দিলেও তারা মন্ত্রিসভায় থাকতে রাজি নয়। অন্যদিকে, কংগ্রেস সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে অন্তত দুটি মন্ত্রিত্ব দাবি করেছে। এছাড়া গুঞ্জন উঠেছে যে, এআইএডিএমকে-র অন্তত তিনজন বিদ্রোহী বিধায়ক বিজয়ের শিবিরে যোগ দিতে পারেন, যা তাঁর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

মাত্র দুই বছর আগে গঠিত দল নিয়ে বিজয়ের এই উত্থান তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। নির্বাচনে একক দল হিসেবে টিভিকে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ কয়েক দশক শাসন করা ডিএমকে মাত্র ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে মাত্র ৪৭টি আসনে গুটিয়ে গেছে। বিজয় নিজে দুটি আসন থেকে জয়ী হওয়ায় বর্তমানে তাঁর হাতে ১০৭টি আসন রয়েছে।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সব বিধায়কের সমর্থন পত্র নিয়ে বিজয় রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবেন এবং রাজ্যপালের আমন্ত্রণ পেলেই শুরু হবে থালাপথি বিজয়ের নতুন এক রাজনৈতিক ইনিংস। পুরো চেন্নাই জুড়ে এখন বিজয়ের সমর্থকদের স্লোগান, ‘হুইসেল পোডু’ (শিস বাজাও), কারণ প্রিয় তারকার নতুন এক রাজত্বের শুরু হতে চলেছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি