বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের পক্ষ থেকে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সার্টিফিকেশন সাময়িক স্থগিতের খবর প্রকাশের পর মুখ খুলেছেন সিনেমাটির নির্মাতা ও অভিনেতা হাসান জাহাঙ্গীর।
বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক লাইভে এসে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং দাবি করেন, তার সিনেমা “বাতিল হয়নি”, বরং “সাময়িকভাবে স্থগিত” করা হয়েছে।
লাইভে হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, “৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার মানুষের কথা চিন্তা করে, তরুণ সমাজ ও প্রবাসীদের কথা ভেবে সুন্দর একটি গল্পের সিনেমা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণ করেছি। ১৫ মে সিনেমাটি মুক্তির প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এটি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু মানুষ বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন তিনি “বড় কোনো অপরাধ” করে ফেলেছেন। তার ভাষায়, “আমার সিনেমা কিন্তু সেন্সর বোর্ড বাতিল করেনি। সাময়িক স্থগিত করেছে। কেউ ভুল তথ্য দেবেন না। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে গলা টিপে মারবেন না।”
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ টেনে হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, প্রায় ৩৮ বছর ধরে তিনি এই ইন্ডাস্ট্রিতে “ক্লিন ইমেজ” নিয়ে কাজ করে আসছেন। দেশের অনেক জনপ্রিয় শিল্পী তার সঙ্গে কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
লাইভে তিনি আরও জানান, সিনেমাটি মুক্তির জন্য এরইমধ্যে ৫০টির বেশি প্রেক্ষাগৃহ বুকিং দেওয়া হয়েছিল এবং হল মালিকদের পক্ষ থেকেও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল। এমন অবস্থায় মুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তকে “হতাশাজনক” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের কথাও জানান এই নির্মাতা। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল কাগজ হাতে পাইনি। কাগজ পেলেই আমি হাইকোর্টে যাব। আইনের প্রতি আমার আস্থা আছে।”
লাইভের শেষ দিকে হাসান জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, চলচ্চিত্রকে ধ্বংস করার জন্য একটি “বিশেষ মহল” কাজ করছে। দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের তার পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা পাশে থাকলে আমি সুবিচার পাবো।”
এর আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় অভিনেত্রী মৌসুমী-র অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে এটি এক ঘণ্টার নাটক হিসেবে শুটিং করা হয়েছিল, পরে তার অজান্তেই সেটিকে সিনেমা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।






