মমতার আমলের দুর্নীতিতে বড় অ্যাকশন! সিবিআইকে তদন্তের সবুজ সংকেত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী – DesheBideshe

মমতার আমলের দুর্নীতিতে বড় অ্যাকশন! সিবিআইকে তদন্তের সবুজ সংকেত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী – DesheBideshe


মমতার আমলের দুর্নীতিতে বড় অ্যাকশন! সিবিআইকে তদন্তের সবুজ সংকেত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী – DesheBideshe

কলকাতা, ১৩ মে – পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়! মমতা ব্যানার্জীর শাসনামলের আলোচিত তিনটি বড় দুর্নীতির মামলায় এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর (CBI) হাত খুলে দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কোনো আমলা বা কর্মকর্তাকে আর আড়াল করবে না সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিবিআই-কে চার্জশিট পেশ ও তদন্তের পূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে আগে থেকেই তদন্ত চলছিল, কিন্তু রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক অনুমতির অভাবে আইনি প্রক্রিয়া থমকে ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ যে তিনটি দপ্তরের দুর্নীতির জট খুললেন:

  • শিক্ষা দপ্তর: শিক্ষক নিয়োগে কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি।
  • পৌর দপ্তর: রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপক দুর্নীতি।
  • সমবায় দপ্তর: সমবায় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনিয়ম।

আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, “আগের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও কর্মকর্তাদের বাঁচানোর জন্য বছরের পর বছর এই অনুমোদন আটকে রেখেছিলেন। আজ সেই বাধা দূর করা হলো।”

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, গত চার বছর ধরে যাদের আড়াল করা হচ্ছিল, এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া নিজস্ব গতিতে চলবে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। আজ তিনটি দপ্তরের ক্ষেত্রে সিবিআই-কে কাজ করার চূড়ান্ত আদেশ জারি হয়ে গেছে। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রস্তুত হলে সিবিআই তাদের মতো করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী ও ঘনিষ্ঠ আমলাদের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করবে। এতদিন প্রশাসনিক ‘ঢাল’ ব্যবহার করে যারা বেঁচে ছিলেন, এবার তাদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে পৌরসভার দুর্নীতি—সব ক্ষেত্রেই নতুন করে গ্রেফতারি ও আইনি তৎপরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

এনএন/ ১৩ মে ২০২৬