শেখার জন্য কি শুধু বই পড়তে হবে, নাকি শুনেও শেখা যায়

শেখার জন্য কি শুধু বই পড়তে হবে, নাকি শুনেও শেখা যায়

মস্তিষ্কের ভেতরে কী ঘটে

তুমি যখন বই পড়ো, তখন তোমার মস্তিষ্ক পর্দার আড়ালে ভীষণ পরিশ্রম করে। সে প্রথমে অক্ষরের আকারগুলো চেনে, সেগুলোকে শব্দের সঙ্গে মেলায়, তারপর সেই শব্দগুলোকে জোড়া লাগিয়ে অর্থ তৈরি করে। শুধু তা-ই নয়, একটি পুরো বইয়ের এক বাক্যের সঙ্গে অন্য বাক্যের সম্পর্কও সে মস্তিষ্কের হার্ডড্রাইভে সেভ করে রাখে। বই পড়ার সময় যতিচিহ্ন, প্যারাগ্রাফ বা বোল্ড করা শব্দগুলো তোমাকে বুঝতে খুব সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তুমি নিজের গতিতে পড়তে পারো। এখানে কোনো তাড়াহুড়া নেই।

অন্যদিকে শোনার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তুমি যখন কিছু শোনো, তখন তোমার মস্তিষ্ককে বক্তার গতির সঙ্গে তাল মেলাতে হয়। মুখের কথা তো বাতাসেই মিলিয়ে যায়! তাই যা শুনছ, তা মনে রাখার জন্য মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত শক্তি খরচ করতে হয়। তা ছাড়া মানুষ যখন কথা বলে, তখন অনেকগুলো শব্দ একসঙ্গে মিলেমিশে যায়। তোমার মস্তিষ্ককে খুব দ্রুত সেই শব্দগুলো আলাদা করে অর্থ বের করতে হয়। এর পাশাপাশি বক্তার গলার স্বর, আবেগ এবং আশপাশের পরিবেশও মস্তিষ্ককে খেয়াল রাখতে হয়।

পড়া সহজ নাকি শোনা সহজ

অনেকেই ভাবে, পড়ার চেয়ে শোনা বুঝি অনেক সোজা! কিন্তু গবেষণা বলছে, জটিল বা নতুন কোনো বিষয় বোঝার ক্ষেত্রে শোনার চেয়ে পড়াই বেশি সহজ। গল্পের বই বা সাধারণ কোনো কাহিনি শোনার ক্ষেত্রে হয়তো খুব একটা সমস্যা হয় না। কিন্তু বিজ্ঞান, ইতিহাস বা জটিল কোনো তথ্যমূলক প্রবন্ধ পড়ার সময় তোমার মস্তিষ্কের অন্য একটি অংশ কাজ শুরু করে, যা তোমাকে কৌশলগতভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে। কল্পকাহিনির জন্য এক রকম নেটওয়ার্ক এবং নন-ফিকশন বা তথ্যমূলক লেখার জন্য আরেক রকম নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মস্তিষ্ক।

বাস্তবতার দিক থেকেও চিন্তা করে দেখো। একটা কঠিন বই পড়ার সময় কোনো লাইন বুঝতে না পারলে তুমি সহজেই সেখানে থেমে যেতে পারো। লাইনটা বারবার পড়তে পারো কিংবা নিচে দাগ দিয়ে রাখতে পারো। কিন্তু পডকাস্ট বা অডিও শোনার সময় কিছু বুঝতে না পারলে বারবার থামিয়ে পেছনে টেনে শোনাটা বেশ বিরক্তিকর। এতে মনঃসংযোগ নষ্ট হয় এবং পুরো বিষয় বুঝতে বেশ সমস্যা হয়।