স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। আমরা ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছি।
আজ (১৯ মে) মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। গতি, সেবা ও ত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্য যে কোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনা ও সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ জনগণের জান-মাল রক্ষায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে আমাদের দেশ প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, বন্যা, ভূমিধস, ভবনধসসহ বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। রয়েছে ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কাও। এই পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভূমিকা দিন দিন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, সে কারণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সেবা-সুবিধা সৃষ্টি, প্রশিক্ষিত জনবল ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভলান্টিয়ারসহ সরকারের অন্যান্য সেবা সংস্থার সাথে তাদের কার্যকর সমন্বয় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে এই বাহিনী সেবা প্রদান করে যাচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। সেজন্য জনগুরুত্ব বিবেচনায় আমরা ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১শটি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলমান রয়েছে। অতি সম্প্রতি ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবেলায় এই বাহিনীর সেবা-সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী বলেন, এছাড়া এই বাহিনীর ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের অধিক করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের জনবল কাঠামো পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের জন্যও আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম চলতি বছরের পহেলা মে থেকে চালু করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়েও বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বাহিনীর সদস্যদের অন্যান্য বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বেশকিছু প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। এই বাহিনীর সদস্যদের আবাসনের সমস্যা দূরীকরণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাটে ২টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। মিরপুরে তাদের সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজও চলমান।
তিনি বলেন, এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ ভাতা হিসেবে ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’এবং ফ্রেশ মানির বিষয়ে চাহিদা রয়েছে। তা আমরা পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সময় এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আত্মাহুতি দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন। সর্বশেষ টঙ্গীর কেমিক্যাল অগ্নিদুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৩ জন কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি জানতে পেরেছি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ২০২৫ সালে ২৭ হাজার ৫৯টি আগুন নেভানোর কাজ করে ৩ হাজার ২৬৩ দশমিক ৬২ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করেছে।






