বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হবে: আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হবে: আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধানরা শুক্রবার গোটা বিশ্বকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে এই গ্রীষ্মে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে।

তিন সংস্থার প্রধানরা একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ বড়ভাবে কমে যাওয়ায় বিশ্বের তেলের মজুদ রেকর্ড গতিতে কমছে।’

তারা আরও বলেছেন, ‘জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে, উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা শীর্ষে ওঠার আগেই বিশ্বের তেলের মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজার পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ক্রমশ বেশি ঝুঁকি তৈরি হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে এক বড় সংঘাতের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ইরান এই যুদ্ধের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এই পথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানির পাঁচ ভাগের এক ভাগ চলাচল করে।

এপ্রিল মাসে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও আইইএর প্রধানরা জানিয়েছিলেন, তারা একটি দল গঠন করছেন। এই দল মূলত দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য সংকট মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করবে।

শুক্রবারের যৌথ বিবৃতিতে তারা আবার বলেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সার দুটোরই দাম বাড়ছে। এই চাপ কম আয়ের দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে।

তারা বলেছেন, ‘সারের দাম বেড়ে যাওয়া বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। কারণ অনেক দেশেই এখন চাষাবাদের মৌসুম শুরু হচ্ছে।’

আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ে সংস্থাটির প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছিলেন, এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির মাত্রা কমাতে হয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, সংকটের কারণে দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর ২ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তার দরকার হবে।

এই সপ্তাহে আইএমএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশ একটি আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ চেয়েছে। দেশটিকে সাহায্য করতে একটি কর্মসূচি তৈরির বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুনঃ

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ, না হলে ব্যবস্থা

এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে নানাভাবে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যে দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভর করে, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ এই তালিকায় পড়ে।

সারের সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। আমদানিনির্ভর দেশগুলো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও এখন বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Zoom Bangla News

Zoom Bangla News

inews.zoombangla.com


Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.


Follow Zoom Bangla News On Google