এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণার এক দিনের মাথায় নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর মিলেছে। আবাসিক খাতের লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য বাড়তি মূল্য প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে এসব গ্রাহক আগের হারেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বাড়তি মূল্য প্রত্যাহারের আবেদন করেছে।
বিইআরসির কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার পাইকারি ও খুচরা- দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়। জুন মাস থেকেই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
নতুন দরে লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা আগের তুলনায় ৬৯ পয়সা বেশি। এ শ্রেণির গ্রাহকেরা মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। সাধারণত নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এ সুবিধার আওতায় পড়ে।
এ ছাড়া মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট মূল্য ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা আগের চেয়ে ৯২ পয়সা বেশি।
তবে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম আগের মতো ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য ৫ টাকা ২৬ পয়সা বহাল থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশ এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ফলে মূল্যবৃদ্ধি বহাল থাকলে বিপুলসংখ্যক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ত।
পিডিবির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিইআরসি অনুমোদন দিলে এসব গ্রাহক আগের হারেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন।





