জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, অর্থনীতি সচল রাখতে আগামী বাজেটে শুল্ক-কর প্রস্তাবগুলো ব্যবসাবান্ধব হওয়া উচিত। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সমাজের নিম্নস্তরে থাকা সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে হবে। বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে চাঙা হয়, সে জন্য একদিকে শুল্ক-করে ছাড় দিতে হবে, অন্যদিকে কর দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা দরকার।
মোহাম্মদ আবদুল মজিদের মতে, এনবিআর নিজেই বাজেটের শুল্ক-কর প্রস্তাবগুলো তৈরি করে। যখন এসব প্রস্তাব তৈরি করা হয়, তখন বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য সামনে রেখে শুল্ক-করের হার কমানো বা বাড়ানো হয়। ছোটখাটো বিভিন্ন খাতে উৎসে কর বসিয়ে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের কর্মকর্তাদের যে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা আছে, তা থেকে সরে আসতে হবে।
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকায় উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। পরের দুই বছর করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা থাকবে—এমন ঘোষণাও থাকবে। ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমার একটি রূপরেখা দেওয়া হতে পারে বাজেট বক্তৃতায়।
সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি নারী করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতা, তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা, গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা, গেজেটভুক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর আহত জুলাই যোদ্ধা করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমাও বাড়বে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা-পিতা বা আইনানুগ অভিভাবকের প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমাও বাড়বে।
আগামী অর্থবছর থেকে বছরজুড়েই রিটার্ন দেওয়া যাবে, বাজেটে এমন ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। তাতে বছরের শুরুতে রিটার্ন দিলে থাকবে করছাড়ের সুবিধা। আর দেরিতে রিটার্ন দিলে তার জন্য ৫ হাজার টাকা বা প্রদেয় করের ১০ শতাংশ জরিমানা আরোপের বিধান থাকতে পারে।




