
তেহরান, ১০ জুন – ইসরায়েলের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত ভূরাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে এই হামলা কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন সামরিক প্রতিক্রিয়া নয় বরং এটি ইরানের নতুন নেতৃত্বের আরও সাহসী এবং আক্রমণাত্মক কৌশলের বহিঃপ্রকাশ।
দীর্ঘ সময় ধরে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত মূলত বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠী এবং গোপন অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার তেহরান সরাসরি ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করে এই বার্তা দিয়েছে যে তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর যেকোনো হামলা ভবিষ্যতে সরাসরি ইরানি প্রতিরোধের মুখে পড়বে।
গত ৮ এপ্রিলের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি হলেও উত্তেজনার মাত্রা কমেনি। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে আলোচনা প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানি স্বার্থে আঘাত হেনেছে এবং ইসরায়েল লেবাননে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
তেহরানের দাবি অনুযায়ী কাগজে কলমে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জানিয়েছেন যে তারা পুরোনো সমীকরণ বদলে দিয়েছেন। কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া ইরানের অবস্থানে কোনো নমনীয়তা আসবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের অভিমত হলো ইরানের বর্তমান নীতিনির্ধারকরা এখন আর কেবল কৌশলগত ধৈর্যের ওপর নির্ভর করতে ইচ্ছুক নন। তারা নিজেদের সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ নিজেদের অনুকূলে আনতে চান।
একই সঙ্গে তেহরান ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকেও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে। ইরানের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিমত্তা প্রদর্শন করা যেখানে ইসরায়েল তাদের বা তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বড় ধরনের পরিণতির কথা চিন্তা করতে বাধ্য হয়।
এস এম/ ১০ জুন ২০২৬






