বিশ্বকাপের মাঠে সব দেশের পতাকা মাটিতে ছড়ানো, কিন্তু সৌদি আরবের পতাকা কেন উঁচুতে? – DesheBideshe

বিশ্বকাপের মাঠে সব দেশের পতাকা মাটিতে ছড়ানো, কিন্তু সৌদি আরবের পতাকা কেন উঁচুতে? – DesheBideshe


বিশ্বকাপের মাঠে সব দেশের পতাকা মাটিতে ছড়ানো, কিন্তু সৌদি আরবের পতাকা কেন উঁচুতে? – DesheBideshe

মায়ামি, ১৭ জুন – ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জমজমাট আসরে মাঠের ফুটবল যুদ্ধকেও ছাপিয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বিশেষ দৃশ্য। ফেসবুক, টুইটার কিংবা গুগল ডিসকভারে এখন নেটদুনিয়ার বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক চর্চা চলছে একটি ভাইরাল ছবি ও ভিডিও নিয়ে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিকতায় অন্য সব দেশের জাতীয় পতাকাকে মাঠের ওপর বিছিয়ে বা মাটির কাছাকাছি রাখা হলেও, সৌদি আরবের পতাকার ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যবস্থা! সেটি মাটিতে ছোঁয়া তো দূর, বেশ উঁচু অবস্থানে সসম্মানে হাতে ধরে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এইচ’-এর সৌদি আরব বনাম উরুগুয়ে ম্যাচের আগে এই অভূতপূর্ব ঘটনাটি ঘটে। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও ম্যাচপূর্ব পতাকা প্রদর্শনের এই ভিন্নধর্মী দৃশ্যটিই এখন টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড।

অন্যান্য দেশ যেখানে ফিফার সাধারণ প্রোটোকল মেনে মাঠে পতাকা প্রদর্শন করেছে, সেখানে সৌদি আরবের পতাকাকে কেন মাটিতে ছড়ানো হলো না?—এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক এক গভীর অনুভূতিতে।

সৌদি আরবের জাতীয় পতাকায় পবিত্র আরবি ভাষায় ইসলামের মূল ভিত্তি বা কালিমা খচিত থাকে—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল)। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের কাছে এটি সবচেয়ে পবিত্র এবং পরম শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় বাণী।

এই কালিমার পবিত্রতা রক্ষা করতেই সৌদি আরব তাদের জাতীয় পতাকার ব্যবহারে কঠোর ও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে।

সৌদি আইন ও ঐতিহ্য অনুযায়ী:

  • পতাকাটি কখনো কোনো অবস্থাতেই মাটিতে স্পর্শ করানো যাবে না।
  • পোশাক কিংবা একবার ব্যবহারযোগ্য (যেমন ওয়ান-টাইম কাপ বা প্লেট) কোনো সামগ্রীতে এই পতাকা ছাপানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • এমন কোনোভাবে এটি প্রদর্শন করা যাবে না, যাতে পবিত্র ধর্মীয় লেখাটির প্রতি সামান্যতম অসম্মান প্রদর্শনের আশঙ্কা তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতে সাধারণত প্রতিটি দেশের পতাকাই একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল বা মাপকাঠি অনুসারে প্রদর্শন করা হয়। তবে কোনো পতাকায় যদি এমন সংবেদনশীল ধর্মীয় বা বিশেষ সাংস্কৃতিক প্রতীক থাকে, তখন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কিংবা স্থানীয় আয়োজকেরা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে থাকেন।

মায়ামির মাঠে সৌদি পতাকাকে মাটিতে না বিছিয়ে যেভাবে উঁচুতে ধরে রাখা হয়েছিল, তা দেখে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্ত এবং নেটিজেনরা আয়োজকদের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। অনেকেই এটিকে পতাকার ধর্মীয় গুরুত্বের প্রতি ফিফার দারুণ এক ‘রেস্পেক্ট শো’ বা সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

তবে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়ে এখন পর্যন্ত ফিফা বা ম্যাচ কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এটি সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের বিশেষ অনুরোধে বাধ্যতামূলক কোনো নিয়মের কারণে করা হয়েছে, নাকি মায়ামির স্থানীয় ম্যাচ আয়োজকদের নিজস্ব সতর্কতামূলক চমৎকার এক সিদ্ধান্ত ছিল—সেটি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে কারণ যা-ই হোক, ফুটবলের মঞ্চে সংস্কৃতির এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা মন জয় করে নিয়েছে কোটি ফুটবল প্রেমীর।

এনএন/ ১৭ জুন ২০২৬