দেশের উত্তরাঞ্চল ও সিলেট বিভাগে আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজানে ভারি বর্ষণের কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাতের এই ধারা কয়েক দিন স্থায়ী হলে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সিলেট বিভাগেও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে সেখানে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আগের দিন একই সময়ে পানির অবস্থান ছিল বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে।
দিনের শুরু থেকেই তিস্তার পানি বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। শনিবার সকাল ৯টায় নদীটির পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানির চাপ বাড়তে থাকায় লালমনিরহাটের বিভিন্ন নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু ফসলি জমি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে সিলেটেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে সেখানে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৪০.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এর পরও শনিবার দুপুর পর্যন্ত অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ভারতের মেঘালয় ও আশপাশের রাজ্যগুলোতেও ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে সিলেটের অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে আগামী তিন দিন উজানে ভারি বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু উত্তরাঞ্চল বা সিলেট নয়, দেশের আরও কয়েকটি বিভাগেও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে বৃষ্টির এই প্রবণতা অন্তত আরও তিন দিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
এ ছাড়া টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা-ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আরও পড়ুনঃ
সামগ্রিকভাবে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া ও উজানের পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভর করবে বন্যা পরিস্থিতি কতটা বিস্তৃত হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকেও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




