রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্তও নিহত – DesheBideshe

রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্তও নিহত – DesheBideshe


রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্তও নিহত – DesheBideshe

লক্ষ্মীপুর, ২৫ জুন – লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমির হোসেন মাস্টারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া শাহীনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদারও নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহতরা হলেন মা শাহীনুর বেগম এবং তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার, ইকরা আক্তার ও শিফা আক্তার। অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ওই বাড়িতে এর আগে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহীনুর বেগমের পরিবার দীর্ঘ বছর ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। ২০১৯ সালে তার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে জীবন অতিবাহিত করছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘাতক অন্তর ওই বাসায় প্রবেশ করে মা ও মেয়েদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে কলাপসিবল গেট আটকে দেয় এবং পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দেয়। আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মা শাহীনুর এবং দুই মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেজো মেয়ে ইকরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত অন্তর মজুমদার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে মারা যান।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতার ইটের আঘাতে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ সুপার জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তবে প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের সাহসিকতায় ঘাতককে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শাহীনুর বেগমের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন বর্তমানে শোকাতুর ও আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

এনএন/ ২৫ জুন ২০২৬