শুরু হচ্ছে বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় রিয়্যালিটি শো | চ্যানেল আই অনলাইন

শুরু হচ্ছে বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় রিয়্যালিটি শো | চ্যানেল আই অনলাইন

অপেক্ষার অবসান। আবারও শুরু হচ্ছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়্যালিটি শো ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’। বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা, জ্ঞান ও শুদ্ধ চর্চাকে ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার সপ্তম বর্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিগত ছয় বছরের সফল আয়োজন নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মৌসুমী মৌয়ের উপস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।

প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ভাষাবিদ ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মনসুর মুসা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইস্পাহানি গ্রুপের পরিচালক জাহিদা ইস্পাহানি ও মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাবিদের বিচারকমণ্ডলীর সদস্য লেখক আনিসুল হক, অভিনয়শিল্পী ও নাট্যজন ত্রপা মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মঞ্জুর, ইস্পাহানি টি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ওমর হান্নান, উপ-মহাব্যবস্থাপক ফজলে রাব্বীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সভাপতির বক্তব্যে ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, “বাঙালির জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’ সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করছে। গত বছর সারা দেশ থেকে প্রায় দুই লাখ প্রতিযোগী নিবন্ধন করেছিল। এই সংখ্যাই প্রমাণ করে আয়োজনটি মানুষের কতটা আপন হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাবিদ থেকে উঠে আসা অনেক প্রতিযোগী বর্তমানে চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন, যা এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সংবাদকর্মী ও দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “৭ম বর্ষের শুরু থেকেই যদি সবাই আমাদের সঙ্গে থাকেন, তাহলে আমি বিশ্বাস করি, এবার দুই লাখ নয়, তারও বেশি প্রতিযোগী অংশ নিতে আবেদন করবেন।”

ইস্পাহানি টি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ওমর হান্নান বলেন, “বাংলাবিদের সপ্তম বর্ষ নয়, দশম বর্ষ বলতে পারলে আমি আরও বেশি খুশি হতাম। ২০১৭ সালে এই আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দুই বছর এবং জাতীয় নির্বাচনের কারণে আরও এক বছর আয়োজন পিছিয়ে দিতে হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে একটি অনুষ্ঠান যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রিয়্যালিটি শোতে পরিণত হবে, তা আমরা শুরুতে কল্পনাও করিনি। কিন্তু আজ সেটাই বাস্তবতা। ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’ এখন দেশের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে প্রতীক্ষিত রিয়্যালিটি শো।”

নতুন আসর সম্পর্কে তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনের দিন থেকেই নিবন্ধন শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধন চলবে। এরপর দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে নির্বাচিত ৮০ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে ঢাকায় আয়োজন করা হবে মূল পর্ব, যা সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই।

ওমর হান্নান আরও জানান, এবারের বাংলাবিদের মহোৎসব অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি।

এসময় তিনি এই আয়োজনের নেপথ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ইবনে হাসান খান ও তাহের শিপনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, ২০১৭ সাল থেকে তারা নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’-কে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

পরে প্রধান অতিথি অধ্যাপক মনসুর মুসা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’-এর সপ্তম আসরের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিচারক আনিসুল হক বলেন, “এই প্রতিযোগিতায় আমি বিচারক না থাকলেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছাড়া বলতাম, বাংলাদেশের টেলিভিশনে যত অনুষ্ঠান হয়, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে সুন্দর, প্রাণবন্ত এবং সবচেয়ে উপকারী আয়োজন।”

ত্রপা মজুমদার বলেন, “ভাষাকে কেন্দ্র করে একটি আয়োজনের জন্য মানুষের এত প্রতীক্ষা, এত উদ্দীপনা—এটাই ‘চ্যানেল আই ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি ও সৌন্দর্য।”

বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও নতুন প্রজন্মের ভাষাজ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’-এর সপ্তম বর্ষের নিবন্ধন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আগের সব রেকর্ড ভেঙে এবার আরও বেশি ভাষাপ্রেমী শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।

সব শেষে ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’-এর ৭ম বর্ষে যারা অংশ গ্রহণ করতে আগ্রহী তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, শনিবার থেকেই শুরু হচ্ছে নিবন্ধন প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের সকল বিভাগ ও অঞ্চলের সকল বিদ্যালয়ে এই খবর পৌঁছে দিবে ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’ এর স্বেচ্ছাসেবীরা। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখতে হবে দেশের জাতীয় দৈনিকসহ চ্যানেল আই-এর পর্দায় এবং ইস্পাহানি মির্জাপুর চা-এর ফেসবুক পেজে।