১৬০ বছর আগে জুল ভার্ন কীভাবে আর্টেমিস মিশনের ভবিষ্যদ্বাণী করলেন

১৬০ বছর আগে জুল ভার্ন কীভাবে আর্টেমিস মিশনের ভবিষ্যদ্বাণী করলেন

গল্প যত এগোতে থাকে, ফরাসি অভিযাত্রী মাইকেল আর্দান কলাম্বিয়াডের সেই ফাঁপা গোলার ভেতর যাত্রী হতে রাজি হন। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন স্বয়ং বার্বিকেন এবং তাঁর চিরশত্রু ক্যাপ্টেন নিকোল।

তবে এখানেই জুল ভার্নের কল্পনার প্রথম বড় বৈজ্ঞানিক ভুলটি ধরা পড়ে। আধুনিক রকেটগুলো কয়েক মিনিট ধরে ধীরে ধীরে গতি বাড়িয়ে মুক্তিবেগে পৌঁছায়। এতে নভোচারীদের ওপর প্রবল অভিকর্ষজ বল কাজ করলেও তাঁরা বেঁচে থাকেন। কিন্তু কামানের গোলা তো এক মুহূর্তের মধ্যেই সর্বোচ্চ গতিতে ছিটকে বের হয়। বাস্তবে এমনটা ঘটলে প্রচণ্ড জি-ফোর্সের চাপে বার্বিকেন, নিকোল ও আর্দান নিমিষেই পিষ্ট হয়ে তরলে পরিণত হতেন! এছাড়াও আরও কিছু বৈজ্ঞানিক ভুল আছে ভার্নের এই উপন্যাসে।

যাই হোক, উপন্যাসে সফলভাবেই গোলার উৎক্ষেপণ হয়। চার বছর পর, ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত সিক্যুয়াল অ্যারাউন্ড দ্য মুন উপন্যাসে এ গল্পের পরের অংশ তুলে ধরেন জুল ভার্ন। বার্বিকেনের ইচ্ছা ছিল গোলাটা সরাসরি চাঁদে আঘাত করবে। কিন্তু বাস্তবে গোলাটি একটি ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরিতে ঢুকে পড়ে। ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি মানে এমন একটি মহাকাশপথ, যেখানে কোনো নভোযান চাঁদের মহাকর্ষের টানে ঘুরে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার না করেই আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে। উপন্যাসেও গোলাটি চাঁদের উল্টো পিঠ ঘুরে আবার পৃথিবীর দিকে ফিরে আসতে শুরু করে। আর্টেমিস ২ মিশনের ক্ষেত্রেও নভোযানের গতিপথ ছিল ঠিক এমনটাই।