বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চ্যানেল আই পরিবারের দীর্ঘদিনের আপনজন মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণ। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর শেষ জানাজা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর কর্মজীবনের আরেক স্মৃতিবিজড়িত স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।
চারুকলা থেকে তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। দেশের এই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুস্তাফা মনোয়ারের ছিল দীর্ঘ ও গভীর সম্পর্ক। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত ‘মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিও’ও বহন করছে সেই সৃজনশীল উত্তরাধিকার।
দুপুর ২টার দিকে মুস্তাফা মনোয়ারকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আসে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর সোয়া ২টার দিকে অনুষ্ঠিত জানাজায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ।

জানাজা শুরুর আগে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার, তিনি আমাদের সবার গুরুজন। তাঁর সাথে আমাদের সখ্যতা দীর্ঘদিনের। বছর চারেক আগে তার নামে আমরা চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে একটি স্টুডিওর নামকরণ করেছি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশকের শিল্পসাধনা, টেলিভিশন, চিত্রকলা, পাপেট আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক জাগরণে মুস্তাফা মনোয়ারের অসামান্য অবদান বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পরে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর শেষ জানাজার নামাজ। জানাজায় অংশ নিয়ে সবাই মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
জানাজা শেষে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বনানী কবরস্থানের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় পাওয়া এই শিল্প-সংস্কৃতির মহীরুহকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।






