২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমার আভাস | চ্যানেল আই অনলাইন

২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমার আভাস | চ্যানেল আই অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং এর ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রভাব বিবেচনায় ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার আভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী বছর বিশ্ব অর্থনীতি ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে, যা তাদের আগের চেয়ে কম।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আইএমএফের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ হবে, যা এপ্রিল মাসে দেওয়া ৩ দশমিক ১ শতাংশ আগের চেয়ে কম। সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ঘিরে বিনিয়োগ ও চাহিদা এ প্রভাবের কিছুটা ভারসাম্য তৈরি করছে।

আইএমএফ আরও জানিয়েছে, ২০২৭ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। যদিও তা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের গড় প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে থাকবে। সংস্থাটির আগের তথ্যে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৫ সালের ৪ দশমিক ১ শতাংশের তুলনায় বেশি। এরপর ২০২৭ সালে তা কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

আইএমএফের গবেষণা বিভাগের উপ-পরিচালক পেতিয়া কোয়েভা ব্রুকস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ প্রবাহ বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বিপরীতমুখী দুই শক্তির মধ্যে দাঁড় করিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ অর্থনৈতিক আভাসকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হতো।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে সম্প্রতি এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৪১টিতে। এদিকে নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলার অতিক্রম করে। জিএমটি সময় অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ফিউচারসের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৭৬ ডলার, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ৮ ডলার বেশি।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে চলতি বছর সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে ইউরোজোনে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১ শতাংশ, কানাডায় ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং জাপানে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে চীনের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আইএমএফ।