হালান্ডের জনপ্রিয়তায় পেরুতে নবজাতকদের নাম রাখা হচ্ছে তার নামে

হালান্ডের জনপ্রিয়তায় পেরুতে নবজাতকদের নাম রাখা হচ্ছে তার নামে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে মাঠের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তার জনপ্রিয়তার প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতেও। সেখানে অনেক অভিভাবক নবজাতক সন্তানের নাম রাখছেন হালান্ডের নামে।

পেরুর জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে হালান্ডের নাম অনুসরণ করে নবজাতকের নাম নিবন্ধনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে নরওয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার পর এই প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে।

ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে সাত গোল করে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়ে জোড়া গোল করে তিনি দলকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন দপ্তরের তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত ৪৬৮টি নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘হালান্ড’। এর মধ্যে ৯১ জন শিশুর পূর্ণ নাম নিবন্ধন করা হয়েছে ‘আর্লিং হালান্ড’ হিসেবে।

দপ্তরের মুখপাত্র ইভান তোরেস বলেন, পেরুর মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবল তারকাদের প্রতি অনুরাগ থেকে সন্তানদের নামকরণ করে থাকেন। বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই হালান্ডের নামে নাম রাখার প্রবণতা বাড়তে থাকে, আর নরওয়ে নকআউট পর্বে ওঠার পর তা আরও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মজার ছলে তিনি বলেন, ‘হালান্ডও যেন এখন একজন পেরুভিয়ান।’

পেরুতে ফুটবল তারকাদের নামে সন্তানের নাম রাখার সংস্কৃতি নতুন নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩ হাজার ৪০২ জনের নাম ‘মেসি’। এর মধ্যে ২৯২ জনের পূর্ণ নাম ‘লিওনেল মেসি’।

এ ছাড়া পর্তুগালের কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নামে ১ হাজার ১৮৫ জন এবং স্পেনের উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামালের নাম অনুসারে ১ হাজার ২৪১ জনের নাম নিবন্ধিত হয়েছে।

তবে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ব্রাজিলের তারকা নেইমার। পেরুতে এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৮০৯ জনের নাম রাখা হয়েছে তার নামে, যা অন্য সব ফুটবলারের তুলনায় অনেক বেশি।