২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ: ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফাইনালের পথে ফুটবল বিশ্ব – DesheBideshe

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ: ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফাইনালের পথে ফুটবল বিশ্ব – DesheBideshe


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ: ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফাইনালের পথে ফুটবল বিশ্ব – DesheBideshe

নিউ ইয়র্ক, ১৬ জুলাই – ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের টিকিটের দাম অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ফিফার নির্ধারিত প্রাথমিক মূল্যের তুলনায় বর্তমানে টিকিটের বাজারমূল্য কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টিকিট বিক্রয়কারী প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুসারে, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩২৭ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৪ লাখ টাকার সমান। এটি যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত যেকোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিটের দাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাইনাল দেখার জন্য সবচেয়ে কম দামি টিকিটের বর্তমান মূল্য ৬ হাজার ৯৪৩ ডলার। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াইয়ের আগে এই মূল্য আরও বেশি ছিল। তবে ফাইনালের দল নিশ্চিত হওয়ার পর দামে সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার জন্য সবচেয়ে দামি টিকিটটি বিক্রি হয়েছে ২৮ হাজার ৪৭৯ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

টিকপিকের পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসে গড় টিকিটের দামের ভিত্তিতে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল এখন তালিকার শীর্ষে। এর আগে ২০২৪ সালের সুপার বোল এবং এনবিএ ফাইনালের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্য থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপের এই আসর সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য প্রায় ৯০০ ডলার নির্ধারিত হয়েছে।

গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিটপিক জানিয়েছে যে ৯৬ বছরের ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০২৬ আসরটি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে ব্যয়বহুল। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় টিকিটের যে গড় দাম ছিল, সেমিফাইনাল পর্যায়ে তা বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিকিটের দাম হ্রাসের ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পর্তুগাল আসর থেকে বিদায় নেওয়ার পর কোয়ার্টার ফাইনালের কয়েকটি ম্যাচের টিকিটের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল।

মূলত ডায়নামিক প্রাইসিং বা পরিবর্তনশীল মূল্যপদ্ধতির কারণে টিকিটের এই আকাশচুম্বী দাম নিয়ে সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ফিফার টিকিট ছাড়ার প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকতা না থাকায় এবং নির্দিষ্ট সময়ে সব টিকিট উন্মুক্ত না করায় এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে যে ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির কৌশল ও পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

এনএন/ ১৬ জুলাই ২০২৬