৫ বছরে আইসক্রিমের বাজার দ্বিগুণ, বাড়ছে স্বাদের লড়াই

৫ বছরে আইসক্রিমের বাজার দ্বিগুণ, বাড়ছে স্বাদের লড়াই

তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘায়িত গ্রীষ্ম: আইসক্রিমের বাজারে বিক্রির রেকর্ড

আবহাওয়ার পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের আইসক্রিমের বাজারে। এক দশক আগেও আইসক্রিমের মূল মৌসুম বা ‘পিক সিজন’ ছিল মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া বিরাজ করছে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ দীর্ঘায়িত গ্রীষ্ম আইসক্রিম কোম্পানিগুলোর জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। মৌসুম দীর্ঘ হওয়ায় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ চক্র প্রায় বছরজুড়েই সক্রিয় থাকছে। ফলে অফ-সিজন বা শীতকালের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিক্রিতে নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।

কোম্পানি ও গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২১ সালেও দেশে আইসক্রিমের বাজারের আকার ছিল দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার মধ্যে। ২০২৬ সালে এসে তা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ বিপুল প্রবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে করপোরেট গ্রুপগুলোর মেগা বিনিয়োগ।

পোলার, সেভয়, ইগলু, জা এন জি ও লাভেলোর মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো নতুন করে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ময়মনসিংহের ভালুকা, ঢাকার সাভার, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সম্পূর্ণ অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। দেশীয় কারখানাগুলোর দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা এখন কয়েক লাখ লিটার। একসময় চাহিদার তুলনায় সরবরাহঘাটতি থাকলেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অটোমেশনের ফলে কোম্পানিগুলো এখন দেশের ভেতরের শক্তিশালী চাহিদা মেটাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। কে কার চেয়ে কত বেশি উৎপাদনসক্ষমতা বাড়াতে পারে, তা নিয়ে চলছে রীতিমতো করপোরেট প্রতিযোগিতা।