
নয়া দিল্লি, ২৯ জুলাই – ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার আপাতত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হলেও দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার যে দাবি তরুণরা তুলেছে, তা প্রচলিত ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৯ সালের নির্বাচনে জেন জি বা বর্তমান তরুণ প্রজন্মই হবে ভারতের প্রধান রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রক। মাত্র ৩৭ দিনের একটি সফল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা ইতিমধ্যে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতে ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী জেনারেশন জেড বা জেন জি প্রজন্মের সংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটিতে পৌঁছাবে।
এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা হবে প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১৮ কোটি ১০ লাখের মতো। জনসংখ্যার এই বড় অংশটি ভারতকে একটি নতুন রূপ দেবে এবং তারা মিলেনিয়াল প্রজন্মকেও ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৯ সালে মিলেনিয়াল প্রজন্মের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৩৫ কোটি ৭০ লাখে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের শিক্ষার্থী, প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণ এবং কর্মজীবনের শুরুতে থাকা পেশাজীবীদের বড় একটি অংশ আসবে এই প্রজন্ম থেকে। ফলে কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সুশাসনের মতো বিষয়গুলো আগামীর রাজনীতিতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
জেন জি প্রজন্মের পরেই রয়েছে বিশাল আকারের জেন আলফা। ২০২৯ সালে তারা ভোটার না হলেও তাদের সংখ্যা ৪১ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আধুনিক জীবনযাত্রায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মোট ভোটার তালিকায় তরুণদের আনুপাতিক হার কিছুটা কমছে।
১৯৮৮ সালে তরুণ ভোটারদের হার যেখানে ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল, ২০২৪ সালে তা কমে ৩০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৯ সাল নাগাদ এটি ২৭ দশমিক ৮ শতাংশে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে এই প্রজন্মের প্রভাব বিচার করা হবে বড় ভুল।
১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এই জেন জি প্রজন্ম প্রকৃত অর্থেই ডিজিটাল দুনিয়ার সন্তান। তারা প্রযুক্তি ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ এবং দ্রুত যেকোনো তথ্য যাচাই করতে পারে। প্রচলিত রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলেও তারা জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়ে অত্যন্ত সোচ্চার।
স্বচ্ছতা ও সততার প্রশ্নে তারা কোনো আপস করতে রাজি নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দ্রুত জনমত গঠন করার ক্ষমতা তাদের অনন্য করে তুলেছে। যন্তর মন্তরে টানা ৩৭ দিনের সফল আন্দোলন ভারতের তরুণ সমাজকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
তাই ২০২৯ সালের নির্বাচনে টিকে থাকতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে জেন জি প্রজন্মের ভাষা বুঝতে হবে। তাদের চাহিদা এবং ভাবনাকে গুরুত্ব না দিলে আগামীর রাজনীতিতে খেই হারিয়ে ফেলার শঙ্কা রয়েছে।
এস এম/ ২৯ জুলাই ২০২৬






