জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বহিষ্কৃত এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে ছাত্রদলের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে বিদ্রোহী হলের সামনে ছাত্রদলের সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রথম দফার সংঘর্ষে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজালাল আহমেদ জনি। পরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, খাবার খাওয়ার সময় ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী রিজওয়ানুল করিম রাব্বীর ওপর একদল নেতাকর্মী হামলা চালায়। হামলায় আহত রাব্বীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ফুটেজে কয়েকজনের হাতে লাঠি ও লোহার রড দেখা গেছে। এ ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পরে অগ্নিবীণা হল ও বিদ্রোহী হলের সামনে উভয় পক্ষ আবার মুখোমুখি হলে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রিজওয়ানুল করিম রাব্বী পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করেছিল। পরবর্তীতে জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রলীগের পরিচয় ত্যাগ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন বলে জানা যায়।
ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল রানা বলেন, রাব্বী আগে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। শুরুতে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর কমিটি গঠনের পর সদস্যসচিব মামুন সরকারের সঙ্গে রাজনীতি শুরু করেন। তার ভাষ্য, রাব্বীর উগ্র আচরণ ও সংগঠনের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রবণতা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া রাতের ঘটনায় তিনি সিনিয়র নেতাদের ওপর হাত তুলেছেন বলেও অভিযোগ করেন রাসেল রানা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিজওয়ানুল করিম রাব্বী। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সময়ে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল, তবে তার কোনো সাংগঠনিক পদ ছিল না। তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত তিনি মাঠে ছিলেন এবং উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনেও অংশ নিয়েছেন। তার ভাষ্য, পরিবারের সদস্যরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর তিনি ও সদস্যসচিব উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মামুন সরকার বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাদের সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।




