
ওয়াশিংটন, ৩০ জুলাই – বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধকবলিত এবং বিতর্কিত সামুদ্রিক অঞ্চলে শত্রুভাবাপন্ন ছোট জলযান ও আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। কম খরচে এসব হুমকি রুখতে ড্রোনবাহী বিশেষ রোবট বোট তৈরির পরিকল্পনা করছে দেশটি।
মূলত বহুল ব্যয়বহুল নৌ ও বিমান বাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত দূরবর্তী স্থানে মোতায়েনযোগ্য স্বয়ত্তশাসিত এই যান তৈরির মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন। মিলিটারি টাইমসের এক প্রতিবেদনে পেন্টাগনের এই নতুন কৌশলগত পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ সম্প্রতি এমন কিছু সারফেস ভেসেল বা ড্রোন বোট চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যা অন্তত দুটি ছোট অ্যাটাক ড্রোন বহন ও উৎক্ষণে সক্ষম হবে। সুইটেবল ওয়ারফাইটিং অ্যাডাপ্টিভ পেলোডস ফর আনম্যানড সারফেস ভেসেলস বা সোয়াপ ইউএসভি নামের এই বিশেষ প্রকল্পটি তদারকি করছে মার্কিন ডিফেন্স ইনোভেশন ইউনিট।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক ও বাজারজাতকরণের জন্য প্রস্তুত ড্রোন বোট এবং ড্রোনের সমন্বিত ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে, যা শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
পেন্টাগনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রচলিত ও ব্যয়বহুল সামুদ্রিক অস্ত্রব্যবস্থার বিপরীতে সাশ্রয়ী সমাধান তৈরি করা। বর্তমানে ছোট ড্রোন বা দ্রুতগতির নৌকার মতো সস্তা হুমকি মোকাবিলায় কোটি কোটি ডলারের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করাকে মার্কিন বাহিনীর জন্য লোকসান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের অধীনে থাকা বোটের ড্রোনগুলো নজরদারি, তথ্যের আদান প্রদান এবং নিখুঁত হামলার কাজে ব্যবহৃত হবে। উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু করে নদী কিংবা উন্মুক্ত সমুদ্রে সমানভাবে কার্যকর হতে পারে এমন পুনঃ ব্যবহারযোগ্য এবং একমুখী অ্যাটাক ড্রোন, উভয় ব্যবস্থার কথাই ভাবছে পেন্টাগন।
সহজে পরিবহনের সুবিধার্থে পুরো ব্যবস্থাটি সাধারণ কার্গো কনটেইনার বা সামরিক বিমানে বহনের উপযোগী করে তৈরির শর্ত দেওয়া হয়েছে। কেবল নজরদারিই নয়, সন্দেহজনক জলযান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও তার পিছু ধাওয়ার সক্ষমতাও থাকবে এসব ড্রোনের।
তিন ধাপে পরিচালিত ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। পরবর্তী পর্যায়ে সফল প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও ২০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের শেষের দিক থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলবে।
এস এম/ ৩০ জুলাই ২০২৬






