‘বিদেশে গ্রেফতার হলে স্পেশাল ফোর্স দিয়ে মুক্ত হব’: আইসিসির পরোয়ানা নিয়ে নেতানিয়াহুর মন্তব্য! – DesheBideshe

‘বিদেশে গ্রেফতার হলে স্পেশাল ফোর্স দিয়ে মুক্ত হব’: আইসিসির পরোয়ানা নিয়ে নেতানিয়াহুর মন্তব্য! – DesheBideshe


‘বিদেশে গ্রেফতার হলে স্পেশাল ফোর্স দিয়ে মুক্ত হব’: আইসিসির পরোয়ানা নিয়ে নেতানিয়াহুর মন্তব্য! – DesheBideshe

তেলআবিব, ৩১ জুলাই – আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাকে কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু! বিদেশে পা রেখে যদি আইসিসির হাতে গ্রেফতারও হতে হয়, তবে অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ভেঙে স্পেশাল ফোর্স বা বিশেষ সামরিক কমান্ডো পাঠিয়ে নিজেকে উদ্ধার করবেন তিনি! মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া নেতানিয়াহুর এই দুর্ধর্ষ ও বিতর্কিত বক্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আইনি অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক একচেটিয়া সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন মন্তব্য করেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহু তার পুরোনো সামরিক জীবনের স্মৃতি টেনে এনে বলেন, “আমি একসময় সেই বিশেষ সামরিক বাহিনীতে (সায়েরেত মাটকাল) টানা পাঁচ বছর সেবা দিয়েছি। এবার নাহয় তাদের জন্য একটি নতুন মিশন বরাদ্দ করা যাক! বিদেশে যদি কোনো পরিস্থিতিতে আমি আটক হই, তবে এই স্পেশাল ফোর্সই আমাকে উদ্ধার করার পূর্ণ দায়িত্ব নেবে।”

গাজা উপত্যকায় চালানো ভয়াবহ গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের গুরুতর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। সেই আইনি চাপের মুখেই ফক্স নিউজের উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

নেতানিয়াহু স্পেশাল ফোর্স পাঠাবার হুমকি দিলেও এই উদ্ধারের কৌশল বা অপারেশন কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু ভেঙে বলেননি।

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাগতিক দেশের অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বিদেশি সামরিক বাহিনীর এমন গোপন অভিযান পরিচালনা করা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অভূতপূর্ব কূটনৈতিক যুদ্ধ এবং সামরিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) ‘রোম সংবিধি’ (Rome Statute) অনুযায়ী, আদালতের সদস্যভুক্ত ১২০টিরও বেশি রাষ্ট্র পরোয়ানাভুক্ত কোনো আসামিকে তাদের সীমানায় পাওয়া মাত্রই গ্রেফতার করতে বাধ্য।

ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ এবং আইসিসির স্বাক্ষরকারী শীর্ষ রাষ্ট্রগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নেতানিয়াহু যদি তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন, তবে আন্তর্জাতিক আইন ও রোম সংবিধি মেনে তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে।

গাজায় হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনি হত্যার অভিযোগে যখন আন্তর্জাতিক মহলে চরম সমালোচনার মুখে নেতানিয়াহু, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক আইনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া এই বক্তব্য আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়ার মতো কাজ করেছে।

এনএন/ ৩১ জুলাই ২০২৬