১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট ‘মুখ ও মুখোশ’ দিয়ে ঢাকাই সিনেমার যাত্রা শুরু হয়। ওইদিন ঢাকার রূপমহল, চট্টগ্রামের নিরালা এবং খুলনায় উল্লাসিনী হলগুলোতে মুক্তি পেয়েছিলেন দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’। সোমবার (৩ আগস্ট) এই সিনেমার ৭০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। তার আগে রবিবার (২ আগস্ট) চ্যানেল আইতে শুরু হয়েছে বাংলা সিনেমার পোস্টার প্রদর্শনী!
বাংলা সিনেমার কিছু বিখ্যাত সব সিনেমা পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সিনেমার পাশাপাশি ইমপ্রেসের নির্মিত দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্রগুলোর পোস্টারও প্রদর্শনী করা হয়।
এসময় প্রদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শিশু সাহিত্যিক এবং প্রযোজক ফরিদপুর রেজা সাগর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ, মতিন রহমান, সোহেল আরমান প্রমুখ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, আজ যতগুলো সিনেমার পোস্টার দেখলাম এগুলোর মধ্যে অনেক ছবি দেখেছি আমি। আমাদের সিনেমার গ্লোরিয়াস অতীত রয়েছে। সিনেমার সুদিন ফেরাতে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের পাশাপাশি আরও যারা কাজ করে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, ভালো সিনেমা দর্শকদের দিতে পারলে তারা উপভোগ করবেন। এজন্য যারা তরুণ যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে।
চলচ্চিত্র সাংবাদিক আবদুর রহমান বলেন, ১৯৫৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলা চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে চলচ্চিত্র শিল্পে ধীরে ধীরে মন্দা নেমে আসে। এখন এমন সময়ও আসে, যখন টানা কয়েক সপ্তাহ, এমনকি এক-দুই মাসেও নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায় না।
তিনি আরও বলেন, একসময় যেখানে সারা দেশে প্রায় ১,৭০০টি সিনেমা হল ছিল, সেখানে আজ টিকে আছে মাত্র ৫০–৬০টি; ঈদের মতো বড় উৎসবে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ ৮০-এর কাছাকাছি পৌঁছায়। বাংলা চলচ্চিত্রের ৭০ বছরের ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনি এই সংকটও আমাদের বাস্তবতা। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এখন প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
কাজী হায়াৎ বলেন, সিনেমার এখন খারাপ সময় গেলেও একদিন ঠিক ঘুরে দাঁড়াবে। সিনেমা কোনোদিন বিলিন হবেনা। ৭০ বছরে এসে বলতে হচ্ছে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রযুক্তি বদল হয়েছে এবং দেখার ক্ষেত্র পরিবর্তন হয়েছে। আমি এখন খেয়াল করেছি যারা হল বিখুম হয়েছিল তারা এখন আবার সিনেমা দেখা শুরু করেছে। এখন সরকারের উচিত সারাদেশে সিনেপ্লেক্স নির্মাণের জন্য সহযোগিতা করা, তাহলে সিনেমাটা বেঁচে যাবে।





