এবার বনানীর যাত্রাবিরতিতে ‘মলূয়া’ | চ্যানেল আই অনলাইন

এবার বনানীর যাত্রাবিরতিতে ‘মলূয়া’ | চ্যানেল আই অনলাইন

চন্দ্রাবতী রচিত ময়মনসিংহ গীতিকার অমর পালা ‘মলূয়া’ এবার মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে বনানীর যাত্রাবিরতিতে। থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির প্রথম প্রযোজনা হিসেবে নির্মিত পালাটির তৃতীয় মঞ্চায়ন হবে আগামী ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায়। দর্শনীর বিনিময়ে অনুষ্ঠিত হবে এ প্রদর্শনী।

‘মলূয়া’র ভাষ্য বয়ান ও নির্দেশনায় রয়েছেন সাইফুল জার্নাল। শিক্ষার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্য ৮০০ টাকা। অনলাইনে টিকিটের মূল্য ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং প্রদর্শনীর ভেন্যুতে টিকিট পাওয়া যাবে ১ হাজার ৫০০ টাকায়।

এর আগে গত ২৩ জুলাই রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে ‘মলূয়া’র প্রথম মঞ্চায়ন হয়। পরদিন একই ভেন্যুতে আরও একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেম, মর্যাদা, সামাজিক বৈষম্য ও নারীর অদম্য শক্তিকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে ‘মলূয়া’র আখ্যান। এখানে মলূয়া শুধু প্রেমিকা বা স্ত্রী নন; বরং প্রতিকূলতা, লাঞ্ছনা এবং ক্ষমতাবানদের অত্যাচারের মুখেও আত্মমর্যাদা, সততা ও মানবিক শক্তি অটুট রাখা এক দৃঢ়চেতা নারীর প্রতীক।

অন্যদিকে সমাজের চাপে নতিস্বীকার করা চাঁদ বিনোদের চরিত্রের মধ্য দিয়ে উঠে আসে ভিন্ন এক বাস্তবতা। প্রযোজনাটি যেন মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত পরাজয় সবসময় শক্তির নয়; অনেক সময় তা দুর্বল বিবেকের।

শতাব্দীপ্রাচীন এই পালাকে নতুন সময়ের ভাষা, দৃশ্যরীতি ও নাট্যনির্মাণের মাধ্যমে পুনরাবিষ্কার করেছে থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানী। অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সৃজনশীল সেতুবন্ধন তৈরি করে ‘মলূয়া’ একই সঙ্গে দর্শকের সামনে একটি প্রশ্নও ছুড়ে দেয়—সময় ও সমাজ বদলালেও নারীর প্রতি বৈষম্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের রূপ কি সত্যিই বদলেছে?

প্রযোজনাটির পারফরম্যান্স ডিজাইন করা হয়েছে একটি গানের দলকে কেন্দ্র করে। গানের দল ‘সর্বনাম’-এর সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন নাট্যদলের অভিনয়শিল্পী, চিত্রশিল্পী ও নাট্যপরামর্শকদের যৌথ তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে প্রযোজনাটি। গান পরিবেশনের পাশাপাশি দলের সদস্যরাও অভিনয়ে অংশ নেবেন।

‘মলূয়া’র বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন হাসনাত রিপন, নুসরাত ইরা, সাইদুর শাহীন, শাহরিয়ার সজীব, প্রিয়ম মজুমদার, তাহাদিল আহমেদ, হুমায়রা স্নিগ্ধা, গোপি দেবনাথ, ফরহাদ শামীম, নানজীবা শৈলী, পি.তে ফজল, মারিয়া ইয়াসমিন, ধ্রুব, সানজিদা চৌধুরী অরিন ও উম্মে প্রেমাসহ অনেকে।

প্রযোজনাটির পরামর্শক হিসেবে আছেন নাট্যশিক্ষক সাইদুর রহমান লিপন। নির্দেশনা সহযোগী সাইদুর শাহীন। ফোক ড্যান্স ফিউশনের দায়িত্বে ফরহাদ শামীম। লোক ও প্রচলিত ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মিউজিক ডিজাইন করেছেন গোপী দেবনাথ, সহযোগী প্রিয়ম মজুমদার।

ফোক এসেন্স ধরে লাইট ডিজাইন করছেন ওয়াসিম আহমেদ, সহযোগী মুখলেসুর রহমান। সেট ও প্রপস ডিজাইনে তাহাদিল আহমেদ এবং সেট অর্নামেন্ট ও কস্টিউম ডিজাইনে আজমাইন আজাদ কথা। পোস্টার ও পাবলিকেশন ডিজাইন করেছেন অরূপ বাউল। ম্যাস মিডিয়া অ্যাক্টিভেশনে কাজ করছে থিয়েটার পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’। প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টে আলামিন খন্দকার এবং কোঅর্ডিনেশন ও ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন আসিফ চৌধুরী।

নির্দেশক সাইফুল জার্নাল বলেন, বর্তমান সময়ে সংগীতের আদি ও প্রকৃত পারফরম্যান্স হারিয়ে যাচ্ছে। পালা, পুঁথি ও গাজীর গীতের মতো বাংলার প্রাত্যহিক সাংস্কৃতিক পরম্পরার আয়োজন এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। যা কিছু হচ্ছে, তার অনেকটাই মূল ধারা থেকে বিচ্যুত।

তার ভাষ্যে, থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি সেই আদি লোকজ আঙ্গিকের মূল নির্যাস বা ‘এসেন্স’ ধরে আধুনিক মঞ্চে নতুন করে তা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।