বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট খাতকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনকারী ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তরে চীনের প্রযুক্তি ও একাডেমিক সহযোগিতা কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার ১৭ আগস্ট ঢাকার জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘কস্টিউম, কালচার, এন্ড কানেকশন: এ বিলাটেরাল সিম্পোসিয়াম অন ট্রেডিশনাল আট্রায়ার এন্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক দ্বিপাক্ষিক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট খাতের উন্নয়নে শিল্প, একাডেমিয়া ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও উন্নত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, দেশের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটগুলোর কারিকুলাম পর্যালোচনা করে চীনের আধুনিক টেক্সটাইল শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পাশাপাশি চীনের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের শিক্ষকদের চীনে পাঠিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরির কথাও জানান তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিল্পসংশ্লিষ্টদের যুক্ত করতে হবে। বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশ প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করছে। তবে উচ্চমূল্যের পণ্য ও ভ্যালু অ্যাডেড টেক্সটাইল উৎপাদনের মাধ্যমে একই পরিমাণ রপ্তানি থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এজন্য ম্যান-মেড ফাইবার ও ভ্যালু অ্যাডেড পণ্যের দিকে টেক্সটাইল খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে টেক্সটাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক দেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের সঙ্গে সঙ্গে এ খাত থেকে অন্য শিল্পে অগ্রসর হয়েছে। তবে বাংলাদেশের জন্য টেক্সটাইল খাতে আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এ রূপান্তরকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।
পাট খাত নিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য। পাটের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের পাটজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতকে নতুন উচ্চতায় নেওয়া প্রয়োজন।
চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণার মাধ্যমে পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মূল্য সংযোজনমূলক পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে পাটকে ব্লেন্ডেড ফাইবার, ফেব্রিকসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তর করা গেলে এ খাতের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়বে। পাটের উৎপাদনশীলতা বাড়লে কৃষকরাও উপকৃত হবেন এবং পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটি ও চাইনিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের প্রতিনিধিরা, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।


