কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প | চ্যানেল আই অনলাইন

কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প | চ্যানেল আই অনলাইন

কানাডার পণ্যে নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির নথিপত্র চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ১৯ আগস্ট সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র সূত্রে জানা যায়, সকালে কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এর মাত্র দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কাছাকাছি থাকায় শুল্ক কার্যকর স্থগিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছি। কারণ নথিপত্র চূড়ান্ত হওয়ার শর্তে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। এক্সে প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যদিও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে।

গত জুলাই থেকে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্পের নির্ধারিত ১৯ আগস্টের সময়সীমার আগে দুই দেশের বাণিজ্য কর্মকর্তারা তীব্র আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। এ সপ্তাহে ট্রাম্প ও কার্নি দুইবার ফোনে কথা বলেছেন।

আলোচনার অন্যতম বড় বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা গাড়ি আমদানি শুল্ক। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে কোন কোন গাড়ি এই ছাড়ের আওতায় থাকবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, যেসব গাড়িতে বেশি পরিমাণে মার্কিন তৈরি যন্ত্রাংশ রয়েছে, মূলত সেগুলোই শুল্ক ছাড় পাক।

এ ছাড়া কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞাও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। গত বছর ট্রাম্পের শুল্কের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বেশ কয়েকটি প্রদেশ মার্কিন মদ বিক্রি বন্ধ করে দেয়। তবে কানাডায় মদ বিক্রির বিষয়টি প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে প্রাদেশিক নেতাদের সমর্থন নিতে হবে।

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড জানিয়েছেন, ‘ন্যায্য চুক্তি’ হলে তিনি মার্কিন মদ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে রাজি আছেন।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে মার্কিন পণ্যের জন্য কানাডার বাজারে ব্যাপক প্রবেশাধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গীকার এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে সমন্বয়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে বহু আলোচিত কিস্টোন এক্সএল তেল পাইপলাইন প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। আলবার্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিবহনের জন্য প্রস্তাবিত এই পাইপলাইনটির দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের প্রশাসন প্রকল্পটি আটকে দিয়েছিল। পরিবেশবাদী ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোও দীর্ঘদিন ধরে এর বিরোধিতা করে আসছে।

নতুন শুল্ক আরোপের কথা ছিল কানাডার বিভিন্ন পণ্যে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জাম। এর বাইরে কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি এবং কাঠজাত পণ্যের ওপর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক রয়েছে।

অন্যদিকে কানাডা চাইছে এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমিয়ে দিক বা প্রত্যাহার করুক। যুক্তরাষ্ট্র কানাডার কাছ থেকে পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার, দুগ্ধজাত পণ্যে মার্কিন চিজ উৎপাদকদের জন্য বাজার আরও উন্মুক্ত করা এবং মার্কিন মদ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো ছাড় চাইছে।

ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর গত বছরের জানুয়ারি থেকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। তার ব্যাপক শুল্কনীতি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

এর মধ্যে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্সও দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, উচ্চ শুল্ক দুই দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করবে, মার্কিন পরিবারগুলোর ব্যয় বাড়াবে, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থায় আরও বিঘ্ন ঘটাবে এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাণিজ্যনির্ভর প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন চাকরিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।