বোতলে ভেসে আসা সবচেয়ে পুরোনো বার্তা কী

টনিয়া ও তাঁর স্বামী তো অবাক! তারা ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করলেন। একটু খোঁজ নিতেই তারা আবিষ্কার করলেন, এই বোতলটা জার্মান নৌ মানমন্দিরের বিশাল এক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার অংশ ছিল। সমুদ্রের পৃষ্ঠের স্রোত কীভাবে কাজ করে এবং কোন দিকে যায়, সেটা বোঝার জন্য তারা টানা ৬৯ বছর ধরে এমন অসংখ্য বোতল সাগরে ভাসিয়েছিল।

ফর্মের গায়ে স্পষ্ট লেখা ছিল বোতলটা ঠিক কবে সাগরে ফেলা হয়েছে, জাহাজের নাম কী, কোন পথে জাহাজটি যাচ্ছিল, এমনকি স্থানাঙ্ক কত ছিল, তা-ও। কাগজের উল্টো পিঠে লেখা ছিল, যে ব্যক্তি এই বোতলটি পাবে, সে যেন বোতল পাওয়ার তারিখ ও জায়গাটা লিখে জার্মান মানমন্দিরে ফেরত পাঠায়।

চিরকুটের তথ্য অনুযায়ী, বোতলটা সাগরে ফেলা হয়েছিল সেই ১৮৮৬ সালে! পাউলা নামে একটি জাহাজ ওয়েলসের কার্ডিফ থেকে ইন্দোনেশিয়ার মাকাসার শহরের দিকে যাচ্ছিল। তখনই কেউ একজন এটা সাগরে ছুড়ে মারে। এরপর ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম এবং জার্মানির বিশেষজ্ঞরা কাগজ ও হাতের লেখা পরীক্ষা করে পুরোপুরি নিশ্চিত হন, সেটি আসল।

সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ব্যাপার কী জানো? ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্বের সহকারী কিউরেটর রস অ্যান্ডারসন জানান, জার্মানির আর্কাইভ ঘেঁটে পাউলা জাহাজের ক্যাপ্টেনের মূল লগবুক সত্যিই খুঁজে পাওয়া গেছে। সেখানে ১৮৮৬ সালের ১২ জুনের পাতায় ক্যাপ্টেনের নিজের হাতে স্পষ্ট লেখা ছিল, ওই দিন ঠিক ওই স্থানাঙ্ক থেকেই একটা বোতল সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল! চিরকুটের লেখার সঙ্গে ক্যাপ্টেনের ডায়েরির লেখা একদম হুবহু মিলে গেল! এর মাধ্যমেই ১৩২ বছর বয়সী এই চিরকুট সবচেয়ে পুরোনো বোতল-বার্তার বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলল। একটু চিন্তা করে দেখো, এই বোতলটা যখন সাগরে ভাসছিল, তখনো পৃথিবীতে দুটো বিশ্বযুদ্ধ হয়নি, টাইটানিক ডোবেনি, এমনকি রাইট ভাইয়েরা উড়োজাহাজও আবিষ্কার করেননি!