বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী নাটক ‘রক্তকরবী’ নিয়ে মঞ্চে হাজির হয়েছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে শুরু হয়েছে নাটকটির প্রদর্শনী। এটি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাট্য প্রযোজনা।
দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, মহড়া ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মঞ্চায়িত হয়েছে ‘রক্তকরবী’। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট লাইফ, অফিস অব কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ এবং ড্রামা অ্যান্ড থিয়েটার ফোরামের আয়োজনে প্রযোজনাটি মঞ্চস্থ হচ্ছে।
নাটকের অভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চ ব্যবস্থাপনা, প্রযোজনা, সংগঠন ও সৃজনশীল পরিকল্পনার বিভিন্ন পর্যায়েও সরাসরি যুক্ত ছিলেন শিক্ষার্থীরা। নাট্যকর্মীদের তত্ত্বাবধানে পুরো আয়োজনটি তাদের জন্য হয়ে উঠেছে অভিনয়ের পাশাপাশি দলগত কাজ ও সাংস্কৃতিক চর্চার একটি বড় অভিজ্ঞতা।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে প্রথম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী লাকী ইনাম। পরে নাটকটির অভিনয়, মঞ্চসজ্জা, আলোক পরিকল্পনা ও সামগ্রিক উপস্থাপনার প্রশংসা করেন তিনি। লাকী ইনাম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও দলগত কাজের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চাকেও সমৃদ্ধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা আরও বিস্তৃত করার আহ্বানও জানান তিনি।
‘রক্তকরবী’ নির্দেশনা দিয়েছেন শ্রেয়শ্রী সরকার। প্রযোজনাটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহফুজা হেলালী।
উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন প্রফেসর সামিয়া হক, স্টুডেন্ট লাইফের হেড তাহসিনা রহমানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ মানুষের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং নিপীড়ন ও ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক শক্তিশালী প্রতীকী নাটক। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এই প্রযোজনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বাংলা সাহিত্য ও নাট্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি নিজেদের মতো করে মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে ‘রক্তকরবী’র দ্বিতীয় ও শেষ প্রদর্শনী।


