বেনাপোলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ৬ কোটি টাকার মাছের মৃত্যু, বিপাকে চাষি

বেনাপোলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ৬ কোটি টাকার মাছের মৃত্যু, বিপাকে চাষি

বেনাপোলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সংকটে প্রায় ৬ কোটি টাকার পাবদা মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন এক মৎস্যচাষি। এতে বিপুল বিনিয়োগ হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে খামারের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

শনিবার দিবাগত রাতে বেনাপোল সীমান্তের রায়পুর মাঠ এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা একটি মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।

মৎস্যচাষির দাবি, রাতভর বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে বৈদ্যুতিক এয়ারেটরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে একে একে বিপুলসংখ্যক পাবদা মাছ মারা যায়। রোববার সকালে ঘেরের পানিতে অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি আলফাজ জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, বিপুল অর্থ বিনিয়োগ এবং ব্যাংকঋণসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ধার-দেনা করে তিনি খামারটি গড়ে তুলেছেন। মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের ব্যয় নির্বাহের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এক রাতের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে তার সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।

আলফাজ বলেন, ‘এক রাতের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে আমার বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। মাছগুলো বাঁচাতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সেই ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। ব্যাংক ও বিভিন্ন জায়গায় কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। সরকার সহযোগিতা না করলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

তিনি আরও জানান, মাছের খাদ্যসহ বিভিন্ন উপকরণ বাকিতেও সংগ্রহ করা হয়েছিল। মাছ বিক্রি করে এসব দেনা পরিশোধের কথা ছিল। এখন বিপুল লোকসানের কারণে ঋণ ও দেনা পরিশোধ এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মৎস্য অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত তদন্ত দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষি। তার অভিযোগ, এত বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত মৎস্য অধিদপ্তর বা বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে খোঁজ নেননি।

স্থানীয় মৎস্যচাষিরা জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক মাছ চাষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ মাছের ঘেরে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বৈদ্যুতিক এয়ারেটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়মিত চালু রাখতে হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে গিয়ে মাছের ব্যাপক মৃত্যু হতে পারে।

তাদের মতে, বড় মৎস্য খামারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও রাখা প্রয়োজন।

এদিকে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত মৃত মাছ অপসারণ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং ঘেরের পানির গুণগত মান পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে শার্শা পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের লাইনম্যান অকিউল জানান, ওই মৎস্যচাষি বিষয়টি তাদের জানিয়েছিলেন। তবে লোডশেডিং থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।