সিলেটের ওসমানীনগরে তেলবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের মা-বাবা ও এক মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকও নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত দম্পতির ৮ ও ৪ বছর বয়সী দুই সন্তান। তারা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে মা-বাবা ও বোনের মৃত্যুর খবর এখনো তাদের জানানো হয়নি।
শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামশী গ্রামের নিয়ামত আলী (৪০), তাঁর স্ত্রী হজুফা বেগম (২৮), মেয়ে আয়েশা বেগম (৬) এবং অটোরিকশাচালক লালন মিয়া (২৮)। লালনের বাড়ি ওসমানীনগরের শেরপুরের মাঝের বাড়ি এলাকায়। নিয়ামত আলীর আদি বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার ইসলামপুরে।
দুর্ঘটনায় আহত নিয়ামতের বড় মেয়ে মারিয়া আক্তার (৮) ও ছোট ছেলে ইয়াকুব আলী (৪) ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের ছোট চাচা গাজীরুল ইসলাম হাসপাতালে তাদের দেখাশোনা করছেন।
গাজীরুল ইসলাম জানান, চার দিন আগে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের ইসলামপুরে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন তাঁর বড় ভাই। শনিবার সকালে সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি মাকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে এসে দুই ভাতিজা-ভাতিজিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান। তবে তারা এখনো জানে না, তাদের মা-বাবা ও বোন মারা গেছেন। সুস্থ হওয়ার পর কীভাবে তাদের এ খবর জানাবেন, তা নিয়ে চিন্তিত স্বজনেরা।
নিয়ামত আলী কৃষিকাজের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন করতেন। সম্প্রতি খামার করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। এ জন্য গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা ক্ষুদ্রঋণ নেন। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে ২০ হাজার টাকা দেন।
গাজীরুল ইসলাম বলেন, ‘৭০ হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে সকালে ভাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তাঁর মরদেহের সঙ্গে আমরা ওই টাকা পাইনি।’
পুলিশ জানায়, সিলেট থেকে ঢাকাগামী পদ্মা কোম্পানির একটি তেলবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, হতাহত ব্যক্তিদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত তেলবাহী ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে।


