সম্প্রতি একটি নিউজ প্ল্যাটফর্ম-এর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে তোলা একটি ছবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া বিতর্কে এবার মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
ছবিটি নিয়ে গত দুদিন ধরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘ভিন্নমত মানেই শত্রুতা নয়।’
একটি নিউজ প্লাটফর্মের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান, অভিনেত্রী বাঁধন ও সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীরের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় আলোচনা।
ছবিটি নিয়ে প্রথমে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার আরমান ও আনিস আলমগীর। দুজনের বক্তব্যেই উঠে আসে- ছবিটি তোলার আগ্রহ আসলে কার পক্ষ থেকে ছিল। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও দেন তারা।
এর মধ্যেই নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন বাঁধন।
বাঁধন বলেন, “আমরা সবাই বলি, আমরা এমন একটা বাংলাদেশ চাই, যেখানে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। যেখানে নিজেদের মধ্যকার বিভাজন ভুলে আমরা সবাই মিলে একটা সুন্দর ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলব। কিন্তু আমার পোস্ট করা একটা ছবি নিয়ে গত দুদিন ধরে যেভাবে উল্টাপাল্টা কথা বলা হচ্ছে, একজন আরেকজনকে ছোট করা হচ্ছে- সেটা সত্যিই খুব হতাশাজনক।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি সাধারণ সামাজিক অনুষ্ঠানে কয়েকজন মানুষের একসঙ্গে ছবি তোলার ঘটনাকে কেন এত বড় করে দেখা হচ্ছে।
বাঁধনের ভাষায়, ‘একটা পাবলিক গেট-টুগেদারে কয়েকজন মানুষ একসঙ্গে ছবি তুলেছে। ব্যস, ব্যাপারটা তো এতটুকুই হওয়ার কথা ছিল। সেখানে কে কার সঙ্গে ছবি তুলল, কেন তুলল- এগুলো নিয়ে এত কিছু করার কী প্রয়োজন?’
নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও স্পষ্ট করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে অধিকাংশ মানুষের রাজনৈতিক বা আদর্শিক মতের মিল নেই। তবে ভিন্নমত থাকার অর্থ এই নয় যে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা, মেশা কিংবা একই জায়গায় বসা যাবে না।
বাঁধন বলেন, ‘ভিন্নমত মানেই শত্রুতা নয়।’ তাঁর মতে, সত্যিকার অর্থে একটি সহনশীল, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে মতের অমিল থাকলেও অন্যের মতকে সম্মান করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
একটি ছবি নিয়ে কাউকে ছোট করা, অপমান করা কিংবা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাঁধন। তার মতে, এই মানসিকতার পরিবর্তন অন্য কারও কাছ থেকে নয়, নিজেদের থেকেই শুরু করতে হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, ‘দেশ বদলানোর আগে আমাদের নিজেদের এই মানসিকতাটুকু বদলানো দরকার।’


