বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত এলপিপির | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত এলপিপির | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ রিটেইল প্রতিষ্ঠান এলপিপি। আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে স্থিতিশীল ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিবৃতিতে এলপিপি জানায়, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প তাদের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। দেশের আরএমজি খাতের প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেও নিজেদের ভূমিকা অব্যাহত রাখতে চায় তারা।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ পোশাক ক্রেতা এলপিপি বর্তমানে দেশ থেকে পোশাক কেনার ক্ষেত্রে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের পোশাক বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করে। পাশাপাশি ৩৫০টিরও বেশি বাংলাদেশি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পোন্নয়নে অবদান রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি তৈরি হওয়া আর্থিক জটিলতার বিষয়ে এলপিপি জানিয়েছে, এফইএসের সঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমানে এফইএসের কাছে এলপিপির পাওনা ৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন টাকা, যা প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন পোলিশ জ্লোটি। এর ফলে পোল্যান্ডভিত্তিক রিটেইল প্রতিষ্ঠানটিকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

এলপিপি বলছে, তৃতীয় পক্ষের এসব দায়ের কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হলেও প্রতিষ্ঠানটি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তবে এই আর্থিক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নিজস্ব চুক্তি অনুযায়ী সব দায় যথাযথভাবে পালন এবং স্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এলপিপি জানিয়েছে, বাংলাদেশ আমাদের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এফইএস-সংক্রান্ত ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের পোশাক খাতের স্থিতিশীলতা, দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি এবং এই খাতকে এগিয়ে নেওয়া স্থানীয় কর্মীদের স্বার্থ নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।

ভবিষ্যতেও স্থানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে এলপিপি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এর মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশে এলপিপির বড় পরিসরের বিনিয়োগ স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক পোশাকশিল্পের ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।