সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ সদর থানায় চুরির অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সাক্ষী দিতে গিয়ে রঞ্জন সরকার নামে এক হিন্দু যুবককে আটক করে পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে অন্য মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন চুরির অভিযোগকারী সাজ্জাদ হোসেন জনি। তবে পুলিশ বলছে, রঞ্জনকে ওই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম দাশড়া এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন জনি সদর থানায় পূর্ব দাশড়া এলাকার মো. রুবেলের বিরুদ্ধে ঘরে ঢুকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগে লিখিত আবেদন করেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম আল মামুনকে দায়িত্ব দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।
তদন্তের স্বার্থে বাদীকে সাক্ষীসহ থানায় আসতে বলেন এসআই শামীম। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে চুরির অভিযোগের প্রধান সাক্ষী রঞ্জন সরকারকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান সাজ্জাদ হোসেন জনি। অভিযোগ, থানায় পৌঁছানোর পর রঞ্জনকে আটক করে হাজতে রাখা হয়। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
চুরির অভিযোগকারী সাজ্জাদ হোসেন জনি বলেন, “রঞ্জনকে আমার দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে থানায় নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ তাকেই আটক করে অন্য একটি মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। সে আমার অভিযোগের প্রধান সাক্ষী। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তার ছোট একটি প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে এবং সে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।”
ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন সরকার যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক পদে থাকার কথাও স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন ওসি।
তবে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজা বলেন, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের কোনো কমিটি নেই। রঞ্জন সরকার যুবলীগের কোনো কমিটিতে নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ওসি মনির হোসেন আরও বলেন, “সন্দেহভাজন কোনো আসামিকে পুলিশ যেকোনো জায়গা থেকে আটক করতে পারে। এমনকি থানা থেকেও গ্রেপ্তার করা যায়। রঞ্জন সরকারকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
তবে দুপুরে থানায় আনার পর গভীর রাতে মামলা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এর কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ওসি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।” পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, চুরির অভিযোগের তদন্তে সাক্ষী হিসেবে থানায় আসা একজন ব্যক্তিকে কেন কয়েক ঘণ্টা থানায় আটকে রেখে পরে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা।

