মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য নিয়োগদাতাদের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।
নিয়োগদাতাদের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াটি মোট আটটি প্রধান ধাপে ভাগ করা হয়েছে। এসব ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করেই বিদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
প্রথম ধাপে নিয়োগদাতাকে এফডব্লিউসিএমএসের মাধ্যমে এফডব্লিউই অ্যাপ্রুভাল নিতে হবে। এ পর্যায়ে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাবাতান তেনাগা করজা সেমেনানজুং মালয়েশিয়া (জেটিকে-এসএম) থেকে ৬০-কে ধারার অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি মাই ফিউচার জবসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে ই-কোটা। এফডব্লিউসিএমএসের মাধ্যমে কেসুমার (মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়) ওয়ান-স্টপ সেন্টারে বিদেশি কর্মীর কোটা চেয়ে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে এবং কোটা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
তৃতীয় ধাপে লেভি বা নিয়োগসংক্রান্ত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হবে। এ প্রক্রিয়া মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ এবং মাইআইএমএমএস ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
চতুর্থ ধাপে নিয়োগদাতাকে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র (সুরাত কেলুলুসান বারশারাত বা এসকে-বি) সংগ্রহ করতে হবে। এ অনুমোদনও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টার এবং এফডব্লিউসিএমএসের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
পঞ্চম ধাপে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম। বিদেশি কর্মীর নিজ দেশের মালয়েশিয়ান দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
ষষ্ঠ ধাপে উৎস দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ ও মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি (আরএ) বা নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহের প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
সপ্তম ধাপে বিদেশি কর্মীর জন্য ভিসা উইথ রেফারেন্স (ভিডিআর) সংগ্রহ করতে হবে। এফডব্লিউসিএমএসের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ ভিসার আবেদন ও কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
সবশেষে অষ্টম ধাপে বিদেশি কর্মীর মালয়েশিয়ায় প্রবেশ সম্পন্ন হবে। এই ধাপ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে নিয়োগের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও নেপাল থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে ইচ্ছুক মালয়েশিয়ান নিয়োগদাতাদের অবশ্যই এফডব্লিউসিএমএস পোর্টালে প্রকাশিত অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির তালিকা ব্যবহার করতে হবে।
এক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের অননুমোদিত বা নির্ধারিত তালিকার বাইরে থাকা কোনো মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত চ্যানেলের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা করলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি প্রতারণা ও অনিয়মের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
কর্তৃপক্ষের মতে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করা হলে পুরো ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে নিয়োগদাতা ও বিদেশি কর্মী উভয়ের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং অবৈধ মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হবে।
বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির তালিকা জানতে নিয়োগদাতাদের এফডব্লিউসিএমএস পোর্টাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা শুধু প্রশাসনিক নিয়মের বিষয় নয়; বরং মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

