ম্যানচেস্টার সিটির ১৯ বর্ষী তরুণ তারকা নিকো ও’রাইলির জন্য শেষ মৌসুম ছিল রূপকথার মতো। পেপ গার্দিওলার অধীনে চমৎকার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারও জিতলেন তিনি। ক্লাবের পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিতে সাহায্য করেছিল।
গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ৩৪ ম্যাচে মাঠে নামেন তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। মৌসুমজুড়েই মধ্যমাঠে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও নৈপুণ্য দেখিয়ে গার্দিওলার অন্যতম নির্ভরযোগ্য অস্ত্রে পরিণত হন। ক্লাবের হয়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ডের ফিফা বিশ্বকাপ দলে জায়গা নিশ্চিত করেন তিনি।
ও’রাইলির মৌসুমের অন্যতম সেরা মুহূর্তটি আসে গত ফেব্রুয়ারিতে, বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে। কারাবাও কাপের ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্মরণীয় জোড়া গোল করেছিলেন। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ভর করে সিটি শিরোপা উল্লাসে ভাসে এবং কারাবাও কাপ নিশ্চিত করে।
এমন অবিস্মরণীয় অর্জন নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ও’রাইলি। পুরস্কার গ্রহণের পর বলেছেন, ‘আমার মৌসুমটা দুর্দান্ত কেটেছে। নিজের কাটানো মৌসুম নিয়ে খুবই গর্বিত। আমার ক্লাবের হয়ে দুটি ট্রফি জিতেছি এবং দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টা যেভাবে ঘটেছে, তাতে ভীষণ আনন্দিত।’
তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারের পাশাপাশি পিএফএ বর্ষসেরা একাদশও ঘোষণা করা হয়। প্রত্যাশিতভাবে একাদশে প্রাধান্য ছিল শীর্ষ টেবিলের দুই ক্লাব— আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির।
আর্সেনাল থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন খেলোয়াড় বর্ষসেরা দলে জায়গা করে নিয়েছেন। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ও’রাইলিসহ ৪ জন অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেজ এবং ব্রেন্টফোর্ডের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ইগর থিয়াগো অবশিষ্ট দুই জায়গা পূরণ করেছেন একাদশের।
এক মৌসুমে জোড়া ট্রফি জয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক এবং বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের খেতাব— সব মিলিয়ে নিকো ও’রাইলির এই স্বপ্নীল উত্থান বিশ্ব ফুটবলে তার দীর্ঘকালীন প্রভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিতও।

