নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় পানি ও ধ্বংসস্তূপের স্রোতে ভেসে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দৃশ্য দেখে অনেকের মনে পড়ছে ২০০৯ সালের হলিউডের দুর্যোগনির্ভর সিনেমা ‘২০১২’-এর একটি ভয়ংকর দৃশ্য। সিনেমায় পাহাড়ের ওপর থাকা একটি মঠকে বিশাল জলরাশি গ্রাস করার দৃশ্যের সঙ্গে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার দৃশ্যের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘২০১২’-এর একটি দৃশ্যে দেখা যায়, তুষারে ঢাকা পাহাড়ের ওপর একটি মন্দিরে বসে আছেন এক সন্ন্যাসী। হঠাৎ তিনি পাহাড়ের পেছনে বিপুল পরিমাণ পানি জমতে দেখেন। এরপর দুইবার বড় একটি ঘণ্টা বাজানোর পর মুহূর্তেই প্রবল স্রোত এসে মন্দিরটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।
নেপালের বন্যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ওই সিনেমার দৃশ্যটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে। এক ব্যবহারকারী ‘এক্স’-এ সিনেমার দৃশ্যটি শেয়ার করে লেখেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য, সিনেমা ‘২০১২’-তে তারা আগেই এটি দেখিয়েছিল।’
এরপর আরও অনেকে নেপালের বন্যার ভিডিওর সঙ্গে সিনেমার দৃশ্যের তুলনা করতে থাকেন। কেউ কেউ লিখেছেন, নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যার দৃশ্যগুলো এতটাই ভয়ংকর যে সেগুলো ‘দ্য ডে আফটার টুমরো’ কিংবা ‘২০১২’-এর কোনো দৃশ্য বলে মনে হচ্ছে।
আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, সিনেমার ‘২০১২’-এর দৃশ্যটি দেখে মনে হচ্ছে, সেটি হয়তো নিছক কল্পনা ছিল না। কেউ কেউ এসব ভয়াবহ দৃশ্যকে পরিবেশগত উদ্বেগের কারণ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
তবে সিনেমার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার এই তুলনা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া। নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগের বাস্তব কারণ হিসেবে সিনেমার কোনো পূর্বাভাসের বিষয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
নেপালের এই ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী ও বিদেশি পর্যটকসহ বেশ কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যায় বহু ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোতেকোশি নদীর উপনদী লেন্দে হিমবাহের তুষারধসে বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। পরে সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোত চীন-নেপাল সীমান্তের রাসুওয়াগাড়ি সীমান্ত পয়েন্টের কাছের তিমুরে এলাকায় আঘাত হানে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
দুর্যোগের ব্যাপকতা নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার দৃশ্যকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘২০১২’ সিনেমার কল্পিত বিপর্যয়ের সঙ্গে তুলনার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে বাস্তবের এই দুর্যোগ যে সিনেমার গল্প নয়, তা এর প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

