ভুলেও খোসাসহ পেয়ারা খাবেন না যারা

ভুলেও খোসাসহ পেয়ারা খাবেন না যারা

পেয়ারা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি জনপ্রিয় ফল। ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকায় নিয়মিত ফলের তালিকায় পেয়ারা রাখতে পারেন অনেকেই। তবে পেয়ারা খোসাসহ খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে কীভাবে পেয়ারা খাওয়া উচিত, তা জানা জরুরি।

টক-মিষ্টি স্বাদের পেয়ারা কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি জুস, স্মুদি, জ্যামসহ বিভিন্নভাবে খাওয়া হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে খোসাসহ পেয়ারা খেলে ফলের ফাইবারসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

তবে সবার ক্ষেত্রে খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া নিষিদ্ধ—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে গোটা পেয়ারা খাওয়া অনেকের খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

ডায়াবেটিসে পেয়ারা খাওয়া যাবে?

পেয়ারায় ফাইবার রয়েছে, যা খাবার হজম ও রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যেকোনো ফলের মতো পেয়ারাও পরিমাণ বুঝে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

পেয়ারা খোসাসহ খেলে রক্তে শর্করা বাড়বেই বা খোসা ছাড়িয়ে খেলেই নিরাপদ—এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মোট খাদ্যাভ্যাস, পরিমাণ ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে?

পেয়ারা ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হৃদ্‌স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরও সাধারণত পেয়ারা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে শুধু পেয়ারা খেয়েই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সুষম খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা।

পেয়ারার উপকারিতা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সহায়ক

পেয়ারা ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হজমে সহায়তা করে

পেয়ারায় থাকা খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

হার্টের জন্য উপকারী

পেয়ারায় পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ফল খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

ত্বকের জন্যও ভালো

পেয়ারায় ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদান শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

তাহলে খোসাসহ নাকি খোসা ছাড়া?

ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা পেয়ারা খোসাসহ খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। খোসা ছাড়ালে কিছু ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি কমে যেতে পারে। তবে কারও যদি পেয়ারা বা এর খোসা খেলে হজমের সমস্যা হয়, সেক্ষেত্রে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে।

আর ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হজমের সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকার বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

সুতরাং, ‘ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরল থাকলে খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া যাবে না’—এমন সাধারণ নিয়ম নেই। বরং পরিমাণ ও ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।