নেপালের জন্য পর্যটকদের কাছে মনীষার আকুতি | চ্যানেল আই অনলাইন

নেপালের জন্য পর্যটকদের কাছে মনীষার আকুতি | চ্যানেল আই অনলাইন

ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের প্রতি তার অনুরোধ, দুর্যোগের কারণে যেন তারা পুরো নেপালকে এড়িয়ে না যান। বরং দেশটির পর্যটন খাত সচল রাখতে নেপাল ভ্রমণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (৩০ আগস্ট) কাঠমান্ডুতে সদগুরুর আয়োজিত ‘ইন সলিডারিটি উইথ নেপাল’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ আহ্বান জানান নেপালের মেয়ে মনীষা কৈরালা। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দুর্যোগের কারণে নেপালকে শুধু সংকট ও দুর্যোগের দেশ হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যটন দেশটির অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মনীষা বলেন, “আপনারা বারবার নেপালের প্রতি যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেখিয়েছেন, তা যেন অব্যাহত থাকে। একটি দেশ হিসেবে আমাদের প্রয়োজন মানুষ আমাদের দেশে আসুক। আমরা চাই না, আমাদের শুধু এমন একটি দেশ হিসেবে দেখা হোক, যেখানে সব সময় দুর্যোগ বা সংকট লেগেই থাকে। আমরা চাই আপনারা ভ্রমণ করুন।”

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের সাম্প্রতিক ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে মনীষা বলেন, “হ্যাঁ, তিব্বত ও নেপাল সীমান্তে দুর্যোগ হয়েছে। কিন্তু পর্যটনই আমাদের প্রাণ। এটা মনে রাখতে হবে। দেশের বাকি অংশে আমাদের পর্যটন প্রয়োজন।”

নেপালকে কীভাবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হোক, সেটিও স্পষ্ট করেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, দেশটিকে শুধু দুর্যোগ দিয়ে নয়, বরং হিমালয়, প্রকৃতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের আতিথেয়তার জন্য মনে রাখা উচিত।

মনীষার ভাষায়, “আমরা চাই না, এমন একটি দেশ হিসেবে পরিচিত হতে যেখানে সব সময় সমস্যা লেগেই থাকে। আমরা চাই আমাদের পরিচিতি হোক সুন্দর আবহাওয়া, শক্তিশালী হিমালয়, চমৎকার মানুষ, প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নেপাল ভ্রমণে উৎসাহিত করছি।”

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। হিমবাহ ধস, বরফ-পাথর ও কাদার স্রোতে নেপালের বিভিন্ন নদী ও উপত্যকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাশুয়া, নুয়াকোটসহ একাধিক এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, সেতু, ভবন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো।

৩০ আগস্ট নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৭৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৫০২ জন তখনও নিখোঁজ ছিলেন।

তবে ৩১ আগস্টের প্রতিবেদনে উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকার মধ্যে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে নেপালে মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই নেপালের পর্যটন খাতকে সচল রাখার আহ্বান জানালেন মনীষা কৈরালা। তার বক্তব্যের মূল সুর—দুর্যোগে আক্রান্ত এলাকাগুলোর প্রতি সহমর্মিতা ও সহায়তা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পুরো নেপালের পর্যটন ও অর্থনীতিকে যেন এই বিপর্যয়ের কারণে থমকে যেতে না হয়। ইন্ডিয়া.কম