এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং (টিবিএমএল) প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের নিয়ে আন্তঃসংস্থা স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। গতকাল রোববার বিএফআইইউয়ের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএফআইইউ জানায়, বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং একটি জটিল, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় আর্থিক অপরাধ। এটি প্রতিরোধ, ঝুঁকি শনাক্তকরণ, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং তদন্তে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ ও ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন অধিদপ্তর (সিআইআইডি), ঢাকা কাস্টমস হাউস, বেনাপোল কাস্টমস হাউস, আইসিডি কমলাপুর ও মোংলা কাস্টমস হাউসের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ বিবেচনায় নির্বাচিত ১৫টি তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। তারা টিবিএমএল প্রতিরোধে বিদ্যমান ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সভায় বলা হয়, টিবিএমএলের পদ্ধতি ও কৌশল ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়ে আরও জটিল হচ্ছে। ফলে এ ধরনের অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং শক্তিশালী ঝুঁকি বিশ্লেষণ কাঠামো প্রয়োজন।
এ কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, তফসিলি ব্যাংক, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিএফআইইউ জানায়, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের আওতায় গঠিতব্য স্টিয়ারিং কমিটি টিবিএমএল-সংক্রান্ত বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন, তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে কাজ করবে কমিটি।
নিয়মিত সভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেবে কমিটি। সম্ভাব্য টিবিএমএল কার্যক্রম শনাক্ত, সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত আরও কার্যকর করতেও কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএফআইইউ আরও জানায়, জটিল আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও তথ্য বিনিময়ভিত্তিক সহযোগিতামূলক কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশেও টিবিএমএল প্রতিরোধে এই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



