
ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধান কোচ জেসন গিলেস্পি। বিশেষ করে প্রথম টেস্টে অধিনায়কত্ব করা সালমান আলি আগাকে পরের ম্যাচে বাদ দিয়ে তৃতীয় টেস্টের আগেই দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান দলে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানোর পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকে।
লিডসে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের অধিনায়ক ছিলেন সালমান। সেই ম্যাচে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে জায়গা হারান তিনি। এরপর তৃতীয় টেস্টের আগেই তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এমন সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলে গিলেস্পি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অধিনায়কত্ব করার পর সালমান আলি আগা দ্বিতীয় টেস্টে বাদ পড়ল, এরপর তৃতীয় টেস্টের আগে তাকে দেশে ফেরার বিমানে তুলে দেওয়া হলো। এমনটা কীভাবে হয়?’
পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের পরিস্থিতির জন্য সহানুভূতিও জানিয়েছেন সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার। তার মতে, দলের অস্থিরতার কারণে ক্রিকেটাররা ভয় নিয়ে খেলছেন।
নির্বাচনপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করতে গিয়ে গিলেস্পি সরাসরি আঙুল তুলেছেন প্রধান নির্বাচক ও হাই পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদের দিকে। তার ভাষায়, ‘তাদের কোনো নির্বাচন কৌশলই নেই, বিশেষ করে আকিব জাভেদের অধীনে। তারা প্রতিদিন নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলায়-যেভাবে প্রতিদিন প্যান্ট বদলায়।’
বাদ পড়া ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। গিলেস্পির দাবি, কয়েকজন ক্রিকেটার নিজেদের বাদ পড়ার খবর পরিবার, বন্ধু ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তার মতে, এর চেয়ে অসম্মানজনক পরিস্থিতি আর হতে পারে না।
মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে মাঠের বাইরের ব্যবস্থাপনার যোগসূত্রও তুলে ধরেছেন গিলেস্পি। তিনি বলেন, ‘মাঠে ধারাবাহিকতা চাইলে, মাঠের বাইরেও ধারাবাহিক থাকতে হবে।’
২০২৪ সালে পাকিস্তানের কোচের দায়িত্বে থাকা গিলেস্পির অধীনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল পাকিস্তান। তবে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত আটটি টেস্ট সিরিজের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে দলটি।
এত সমালোচনার পরও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের নিয়ে আশাবাদী গিলেস্পি। বলেছেন, ‘পাকিস্তানে বিশ্বমানের প্রতিভার অভাব নেই, প্রয়োজন শুধু খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে সঠিক সমর্থন ও স্থিতিশীল পরিবেশ দেওয়া।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

