কাগজপত্র ও জামানত ছাড়াই অ্যাপ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ঋণ

দেশে প্রথমবারের মতো বিকাশ মার্চেন্টদের জন্য অ্যাপভিত্তিক জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। নতুন এই সেবার আওতায় সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা যোগ্য মার্চেন্টরা কোনো কাগজপত্র, জামানত কিংবা ব্যাংকে না গিয়েই বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
বিকাশ ও ব্র্যাক ব্যাংকের এই উদ্যোগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা দ্রুত ব্যবসায়িক মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সহজ ও ডিজিটাল এই অর্থায়ন ব্যবস্থা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের ক্যাশলেস পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
নতুন এই সেবার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে মার্চেন্টের সম্পদ বা জামানতের পরিবর্তে তার বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের লেনদেনের রেকর্ড ও ব্যবহারের প্রবণতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
অর্থাৎ কোনো মার্চেন্ট নিয়মিতভাবে বিকাশের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে যত বেশি পেমেন্ট গ্রহণ করবেন, তার ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। যোগ্য মার্চেন্টরা বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকেই কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে ডিজিটালভাবে।
ঋণের অর্থ পণ্য কেনা, ব্যবসা সম্প্রসারণ, মৌসুমি চাহিদা মোকাবিলা কিংবা অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কার্যকরী মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন মার্চেন্টরা।
দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ এখনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণসেবার বাইরে রয়েছেন। ব্যাংকঋণ পেতে কাগজপত্র, দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার কারণে অনেক উদ্যোক্তাকে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে জরুরি প্রয়োজনে অনেকে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন।
এমন বাস্তবতায় বিকাশ ও ব্র্যাক ব্যাংকের এই ডিজিটাল মার্চেন্ট লোন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জরুরি অর্থায়নের একটি বিকল্প উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে সম্পদ বা জামানতের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাসকে ঋণযোগ্যতার সূচক হিসেবে বিবেচনা করায় আনুষ্ঠানিক ঋণসেবার আওতায় আরও বেশি উদ্যোক্তা আসার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন সেবা চালুর পরপরই সাতক্ষীরার ‘সম্রাট শু’-এর স্বত্বাধিকারী মো. শিহাব রায়হান ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনে হঠাৎ অর্থের প্রয়োজন হলে আগে আত্মীয়স্বজন বা ভাইদের কাছ থেকে ধার করতে হতো। নতুন এই সুবিধা তার ব্যবসা পরিচালনাকে সহজ করেছে এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত মূলধন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণে বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন কারু উদ্যোক্তা রোকেয়া আকতার অর্না। সম্প্রতি তিনিও ব্যবসার প্রয়োজনে বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকে ঋণ নিয়েছেন।
রোকেয়া আকতার বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো জামানত বা কাগজপত্র জমা দিতে হয়নি। তার ব্যবসার অধিকাংশ গ্রাহক বিকাশে পেমেন্ট করায় সেই লেনদেনের ইতিহাসই ঋণ পাওয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য ধীরে ধীরে ঋণযোগ্যতার একটি কার্যকর সূচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সম্পদের পরিবর্তে লেনদেনের ধরন বিশ্লেষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। দেশজুড়ে বিকাশের প্রায় ৮ লাখ মার্চেন্টের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব মার্চেন্টের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেই ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য কাজে লাগিয়ে তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করাই নতুন সেবাটির মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়ে বিকাশ ও ব্র্যাক ব্যাংকের এই উদ্যোগ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ, দ্রুত ও জামানতবিহীন অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক মূলধনের সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দেশে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস লেনদেনের পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
